প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা মোটরসাইকেলে করে শহরের শাপলা চত্বরের দিকে যাওয়ার পথে ৪-৫ জন যুবক প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে গতিরোধ করে। এসময় দুর্বৃত্তরা ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে তাকে অন্য মোটরসাইকেলে তোলার চেষ্টা করে। স্থানীয় জনতা এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা তাকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় জনতা চার দুর্বৃত্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশের সহায়তায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা (ইউএনও) সৈয়দ সামশুল তাবরিজ আহতাবস্থায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। খাগড়াছড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বেলা দেড়টায় কড়া নিরাপত্তায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক ডা. নয়নময় ত্রিপুরা জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। তার মাথায় আঘাত লেগেছে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনর্চাজ(ওসি) সাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা যেহেতু ইউপিডিএফ সমর্থিত, তাই ধারণা করা হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা করতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা চার যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, গত ৩ মে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা নিহতের পর থেকে নিরাপত্তা জনিত কারণে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা।
চঞ্চুমনি চাকমার ওপর হামলার ঘটনার পর খাগড়াছড়ি শগরে থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
ইউপিডিএফ এর মুখপাত্র নিরন চাকমা এই হামলার ঘটনার নিন্দা জানান। তিনি চঞ্চুমনির ওপর হামলা ও অপহরণে চেষ্টার জন্য প্রতিপক্ষ ইউপিডিএফ গণতন্ত্রিককে দায়ী করেন। তিনি হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। ইউপিডিএফ এই ঘটনার প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ করছে বলেও জানান তিনি।