টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় ১২৫ বছরের পুরনো শ্রী শ্রী মদন গোপাল মন্দির ও দেবোত্তর এস্টেটের জমি দখল করে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততায় মধুপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ও মুকুল একাডেমি নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ওই জমি দখল করে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে মধুপুরের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতারা জানান,১৮৯১ সালে পুঠিয়ার মহারানী হেমন্ত কুমারী চৌধুরানী উপজেলা সদরে মদন গোপাল মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দিরটি পরিচালনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহের জন্য তিনি ৯ একর ১৭ শতাংশ জমি দান করেন। জমিদারী প্রথা উচ্ছেদের পর পাকিস্তান সরকার এই জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেয়। এর বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ মুনসেফ আদালতে মামলা হয়। ১৯৬৩ সালের ৩১ নভেম্বর আদালত মদন গোপালের পক্ষে রায় দেয়। পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালতে আপিল করে। শুনানি শেষে ১৯৬৭ সালের ২৯ জুলাই সরকারপক্ষের আপিল আবেদন খারিজ করে দেয় জজ আদালত ।
সরেজমিনে দেখা যায়,টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে উত্তর দিকে কিছুটা পথ পেরোলেই মদন গোপাল মন্দিরের সেই সম্পত্তি। সেখানে জমি দখল করে পুরোদমে নির্মাণকাজ চলছে দুইটি প্রতিষ্ঠানের। এছাড়া, ইতোমধ্যে প্রায় শতাধিক ব্যক্তি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকের প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছে না।
সম্প্রতি এই জমি দখলের প্রক্রিয়া শুরু করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ও মুকুল একাডেমি । জানা যায়, শিক্ষক সমিতির নামে ১৯৬২ সালে দুই শতাংশ জায়গা (২৯৯ দাগের) দেবোত্তর এস্টেট থেকে পত্তন নেওয়া ছিল। গত বছর সমিতি ওই জায়গায় একটি চার তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। সমিতি গত বছর ৩১ আগস্ট মধুপুর পৌরসভা থেকে নকশারও অনুমোদন নেয়। কিন্তু সমিতি তাদের পত্তন নেওয়া ভূমিতে ভবন নির্মাণকাজ না করে মন্দিরের মালিকানাধীন ভূমিতে (২৪১ দাগের) ভবন নির্মাণকাজ শুরু করে। বিষয়টি মন্দির পরিচালনা কমিটির নজরে আসার পর তারা মধুপুর পৌরসভার মেয়রকে গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর লিখিতভাবে জানায়।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জীবন কুমার চৌধুরী বলেন, ‘৯ একর ১৭ শতাংশ জায়গার মধ্যে প্রায় ৭ একর জায়গা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ব্যক্তি বেদখল করে রেখেছে। সম্প্রতি শিক্ষক সমিতি ও মুকুল একাডেমি জমি দখল করে ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছে।’ ১২৫ বছরের পুরনো শ্রী শ্রী মদন গোপাল মন্দির ও দেবোত্তর এস্টেটের জমি উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন জানান, ‘৬ দশমিক ৩১ শতাংশ জমি শিক্ষক সমিতির। আমরা জমির খাজনাও দিয়ে যাচ্ছি। পৌরসভা থেকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
এ বিষয়ে মুকুল একাডেমি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেনের অফিসে গেলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ‘বসেন’ বলে বের হয়ে যান। পৌনে একঘণ্টা বসে থেকেও তার দেখা পাওয়া যায়নি।এরপর তার মোবাইল ফোনে বারবার কল দিলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মধুপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘কাজ বন্ধের জন্য শিক্ষক সমিতিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এরপরও তারা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’