অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার (প্লেজারিজম) অভিযোগে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও দুই ছাত্রকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪/০৭/১৮) সিন্ডিকেটের ৬২তম সভায় প্লেজারিজম এর সুস্পষ্ট অভিযোগ এবং এ সম্পর্কিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ, সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-বারী ও এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. হাসান আলী এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র মো. মেজবাহ-উল-ইসলাম ও মো. শাহাদত হোসেন।
কুয়েটের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সিন্ডিকেটের সভায় সিদ্ধান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি কার্যকর হয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্লেজারিজমের অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হলে ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৫৮তম সভায় বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠিত হয়। কমিটি হচ্ছে কুয়েটের আইআইসিটি’র পরিচালক প্রফেসর ড. বাসুদেব চন্দ্র ঘোষ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অব এক্সিলেন্স এর পরিচালক প্রফেসর ড. আফরোজা পারভীন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের রেজিস্ট্রার অব কপিরাইট জাফর রাজা চৌধুরী। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট উল্লেখিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শাস্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়।
অভিযোগে জানা যায়, ২০০৪ সালে মিটসুবিসি মটরস এর টেকনিক্যাল রিভিউতে (নম্বর-১৬) প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধের প্রায় শতভাগ হুবহু নকল করে কুয়েটের উল্লেখিত শিক্ষকরা ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ভলিউম-২ ইস্যু-১) এবং আইসিএমআইএমই ২০১৩ এ দুইটি টেকনিক্যাল পেপার প্রকাশ করে। ওই পেপার সমূহের বিষয়বস্তু, ফলাফলসহ অন্য লেখকের গবেষণার সঙ্গে মিলের পরিমাণ নিরীক্ষণের জন্য পাঠানো দেশের খ্যাতনামা চার জন গবেষক ও শিক্ষকের কাছ থেকে পৃথক পৃথকভাবে প্লেজারিজম এর সত্যতা পাওয়ার পর অভিযোগটি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি বাংলাদেশ ‘কপিরাইট আইন ২০০০’ (সংশোধিত ২০০৫) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দ্বিতীয় সংবিধি ২০০৫’ এর আলোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে অপরাধীদের দণ্ড প্রদানের সুপারিশ করে।