রাজশাহীতে বিকাশের মাধ্যমে ভোটারদের টাকা দেওয়ার অভিযোগ

রাজশাহীতে বিকাশের মাধ্যমে ভোটারদের টাকা দেওয়ার অভিযোগরাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে বিকাশসহ অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভোটারদের টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থী, বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সমর্থন পেতে টাকা বিতরণ করছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও এই অভিযোগ করা হয়েছে। তারা এ নিয়ে কাজও শুরু করেছেন।

নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী শনিবার (২৮ জুলাই) রাত ১২টায় প্রচারণা শেষ হবে। তবে এর আগেই অবৈধভাবে ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা শুরু হয়ে গেছে। গোপনে চলছে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থের লেনদেন। ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন বিকাশ পয়েন্ট আর্থিক লেনদেন বেড়ে গেছে বলেও জানা গেছে।

নগরীর কয়েকটি বিকাশ এজেন্ট সূত্র (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানিয়েছেন, ‘আগের চেয়ে আমাদের লেনদেন বেড়ে গেছে। তবে এই লেনদেন ভোটের কারণে বেড়েছে কিনা তা নির্বাচন শেষ হলে জানা যাবে। তবে বর্তমানে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় সারাদিন অর্থের লেনদেন হচ্ছে। সাধারণ সময়ের তুলনায় এখন বড় অর্থের লেনদেন একটু বেশি হচ্ছে। কিন্তু তুলনামূলক হারে বেড়েছে ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকার লেনদেন। এ ধরনের লেনদেনের সব বয়সি গ্রাহকই পাচ্ছেন।’

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনি এজেন্টদের সরাসরি টাকা না দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে দিচ্ছে বলে তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব টাকা এজেন্টরা তাদের প্রচার-প্রচারণার কাজে ব্যয়সহ ভোট কেনাবেচার কাজে ব্যবহার করছে বলেও জানা গেছে। নির্বাচনি এজেন্টরা ভোটারদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে একটি তালিকা তৈরি করে বিভিন্ন বিকাশ একাউন্ট থেকে টাকা পাঠাচ্ছেন।

এদিকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের নির্ধারিত অর্থ ব্যয় করার অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এসব অর্থের বাইরে চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এজেন্ট ও প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বড় অংকের অর্থের লেনদেন হচ্ছে বিকাশের মাধ্যমে। এরই মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে লেনদেনের বিষয়টির তদারকি করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। যেসব নম্বর থেকে বিকাশে লেনদেন করা হচ্ছে, সেগুলো পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

এব্যাপারে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, ‘আমরা এসব বিষয়ে নজরদারি রাখছি। প্রমাণ পেলেও আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।’

ভোটারদের মোবাইলে টাকা দেওয়ার অভিযোগ বিষয়ে কোনও অভিযোগ দাখিল হয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে রাজশাহী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কোনও অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি আমরা শুনেছি। আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন- রাজশাহীর রাস্তায় বিজিবি-র‍্যাব