রাজশাহী সিটি নির্বাচনে খুলনা ও গাজীপুরের মতো কারচুপি হলে গণঅভ্যূত্থান ঘটিয়ে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, ‘আগামী সোমবারের সিটি নির্বাচন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের। এই নির্বাচনে সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থী যদি কোন ধরনের অনিয়ম, ভোট কারচুপি বা জালিয়াতি করেন, তবে ১৯৬৯ সালের মতো গণঅভ্যূত্থান গড়ে তোলা হবে। আর এর মাধ্যমে ভোট কারচুপির সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।’
শনিবার (২৮ জুলাই) বিকালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে মিছিল শেষে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে পথসভা হয়। এতে মিনু এসব কথা বলেন।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘এই সরকার খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে কারচুপি করে দলীয় প্রার্থীকে জিতিয়েছে। তারা মনে করছে, রাজশাহীতেও একইভাবে নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী করবে। কিন্তু রাজশাহীর মানুষ এতো বোকা নয় যে, সরকারের নীলনকশা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে। বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকেরা এর দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া জন্য তৈরি হয়ে আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনও স্বৈরাচারি সরকার কোনও দেশেই বেশিদিন স্থায়ী হতে পারেনি। এই ফ্যাসিস্ট, নব্য স্বৈরাচারি, নির্যাতনকারী, খুনি, ব্যাংক লুটকারী সরকারও আর টিকে থাকতে পারবে না। সিটি নির্বাচনের পরই এই অবৈধ সরকারের অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর পতনের কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সেইসঙ্গে রাজশাহীতে বুলবুলকে বিজয়ী করে এই আন্দোলন আরও বেগমান করা হবে।’
মিনু বলেন, ‘আজকে যেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, এই রেলওয়ে স্টেশন বিএনপির আমলে আধুনিকায়ন হয়েছে। এ ছাড়া, রাজশাহীর রাস্তা, ড্রেন, বনায়ন, পার্ক, সেকেন্ডারি প্ল্যান্ট নির্মাণ, গ্যাস আনয়নসহ সব বিএনপির আমলে হয়েছে। লিটন শুধু গাছে গাছে মরিচ লাইট লাগিয়েছে। এ ছাড়া, সে আর কোনও উন্নয়ন করতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে রাজশাহীতে যত প্রশস্থ রাস্তা আমার আমলের প্রকল্প। লিটন চাকরি দেওয়ার নামে কোটি কোটি লোপাট করে বিত্তশালী হয়েছে। এ ছাড়া, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে নিজের পকেট ভরেছে। সেইসঙ্গে করের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। অথচ রাজশাহীকে বদলানোর নামে এখন সে নগরবাসীকে ধোঁকা দিচ্ছে।’
পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন– পুঠিয়া দুর্গাপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। পথ সভায় বক্তব্য দেননি বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তবে তিনি উপস্থিত ছিলেন।