সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য উন্নয়ন ভোগান্তি মেনে নিতে হবে: চসিক মেয়র

বক্তব্য রাখছেন আ জ ম নাছির উদ্দিন

সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য উন্নয়ন ভোগান্তি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের প্রসববেদনা আছে, উন্নয়নের ভোগান্তি আছে। এটি কোনোভাবেই আমরা অস্বীকার করতে পারবো না। চট্টগ্রাম ওয়াসা, কেজিডিসিএল, বিটিসিএল –এসব প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যখন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে, তখন ওইসব সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কিন্ত এটি এড়ানোর সুযোগ নেই। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হলে আমাদের এই কষ্ট মেনে নিতে হবে। সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য নগরবাসীকে উন্নয়নের এই ভোগান্তি সহ্য করতে হবে।’

সোমবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম নগরীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি একথা বলেন। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করে সিটি করপোরেশন।

আ জ ম নাছির বলেন, ‘সুপেয় পানি, নিরাপদ পানি নগরবাসীর জন্য খুবই জরুরি। এই পানি একদিন না পেলে নগরবাসী কী দুর্ভোগে পড়েন, আপনারা জানেন। তাহলে এই নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ি করতে হবে। আর একটা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে তিন বছর, চার বছর, পাঁচ বছরও সময় লাগে। এই বাস্তবতাটুকু আমাদের বুঝতে হবে; বিষয়টা অনুধাবন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইন্টারনেট, টেলিফোন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের একটা অনুষঙ্গ। আপনার সবাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, সবাই ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এই অপটিক্যাল ফাইবার যদি স্থাপন করা না হয়, তাহলে কিভাবে আপনারা ইন্টারনেট পাবেন। এর জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে হয়। এটি করা ছাড়া কোনও উপায় নেই।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, ‘সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বারবার প্রচার না করে সমাধানের জন্য এর বিকল্প কোনও পথ আছে কিনা সেটা আপনারা তুলে ধরুন। এতে আমরা যারা প্রকল্প গ্রহণ করছি, আমরাও উপকৃত হবো, নগরবাসীও উপকৃত হবেন।’

সমাবেশে মেয়র তার তিন বছর মেয়াদকালের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরেন।

আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণ করেছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। বিগত তিন বছরে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম বির্নিমাণে বিলবোর্ড অপসারণ, ডোর টু ডোর আর্বজনা সংগ্রহ ও অপসারণ, সড়ক আলোকায়নসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করেছি। তিন বছরে নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে অনেকগুলো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আরও অনেকগুলো প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি, এগুলো বাস্তবায়ন করা হলে নাগরিক সেবার মান আরও বেড়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘গত তিন বছরে কোনও ধরনের দুর্নীতি, চুল পরিমাণ অনিয়মের কথা কেউ বলতে পারবেন না, এটাই আমার সফলতা। কথা নয়, কাজের মাধ্যমে আমি নিজের যোগ্যতা এবং সফলতার প্রমাণ দেবো।’

এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন– করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। এরপর ডিজিটাল স্ক্রিনের মাধ্যমে বিগত তিন বছরে বাস্তবায়ন করা বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্যচিত্র তুলে ধরা হয়।

সমাবেশে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা মেয়রের সামনে তাদের পরামর্শ তুলে ধরেন।

সমাবেশে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সাহাবউদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, চট্টগ্রাম  প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরোয়ার, সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলী আব্বাস, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, প্রকৌশলী মো. হারুন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।