না.গঞ্জে মহাসড়কে অবস্থান শিক্ষার্থীদের, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

না.গঞ্জে মহাসড়কে অবস্থান শিক্ষার্থীদেরঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। এ কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে অবরোধ শুরু হয়। এসময় তারা সড়ক অবরোধ করে রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার ঘটনার বিচার দাবিতে স্লোগান দেয়। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দাবি আদায় না হবে, ততক্ষণ রাস্তা ছাড়বে না বলে জানায় তারা। মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ের করা হয়েছে।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া গোল চত্বর এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। এসময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের গাড়ির ড্রাইভারের লাইসেন্স পরীক্ষা করছে। যাদের কাছে লাইসেন্স পাওয়া যাচ্ছে না, তাদের গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসময় একটি লেগুনা ও বাস ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। 

নারায়ণগঞ্জ বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মুক্তার হোসেন জানান, সকাল থেকে তারা রাস্তায় বাস নামিয়েছেন। কিন্তু সড়কের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীরা অবরোধ করায় অনেক বাস রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। যে সব যানবাহন সকালে ঢাকায় গিয়েছিল সেগুলো এখনও ফিরে আসেনি।

না.গঞ্জে মহাসড়কে অবস্থান শিক্ষার্থীদেরতিনি বলেন, ‘আজকে কোনও শ্রমিক সংগঠন মাঠে নামেনি। গতকাল সাইনবোর্ডে কয়েকজন অতি উৎসাহী শ্রমিক মাঠে নেমেছিল বলে শুনেছি। কিন্তু তারা কারা তা আমার জানা নেই।’

নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের এএসপি আব্দুর রশিদ জানান, সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রোডে যান চলাচল সাভাবিক ছিল। কিন্তু সকাল ১০টার পর থেকে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল ও চাষারা এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, ‘পুলিশ সতর্কতার সঙ্গে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যেন শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনও সংঘর্ষ না হয়।’

উল্লেখ্য, রাজধানীতে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় বুধবার সকাল থেকে মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা। এ সময় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। শ্রমিকদের সঙ্গে যোগ দেন  পরিবহন মালিকরাও। এতে মহাসড়কে চলাচলরত যাত্রীরা নানা দুর্ভোগে পড়েন। যাত্রীদের অনেকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেন। এসময়  পুলিশের সামনেই পরিবহন শ্রমিকরা লাঠি হাতে মারমুখী হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও পথচারীদের ওপর হামলা করে। আহত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, পুলিশকে এ সময় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। চার শিক্ষার্থী আহত হয় বলে জানায় তারা।