কারিমার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন আ.লীগ নেত্রী

মাঝে কারিমা, তার এক পাশে নীল ওড়না পরিহিত মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রীনা তালুকদার, অন্য জন কারিমার মা নাসিমা বেগম (ছবি- প্রতিনিধি)

বাগেরহাট শহরের খারদ্বার এলাকার (কাজীর বস্তি) অদম্য মেধাবী কারিমা খাতুনের পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রীনা তালুকদার। শুক্রবার (৩ আগস্ট) রাতে রীনা তালুকদার এই মেধাবী শিক্ষার্থীর বাড়ি যান এবং তার পড়াশুনার জন্য যাবতীয় খরচ বহনের ঘোষণা দেন।

২৭ জুলাই অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনে ‘কারিমার স্বপ্ন কি সফল হবে?’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘লেখাপড়া ও পরিবারের খরচ জোগাতে ইট ভাঙতে হয়েছে তাকে। তারপরও তিনবেলা খাবার জোটেনি। রাতে পড়ালেখা করতে কেরোসিনের তেল পর্যন্ত কিনতে পারেনি। তাই সব কাজের মাঝেই দিনের বেলাতেই লেখাপড়া করেছে কারিমা খাতুন। তবে এতসব প্রতিকূলতা দমাতে পারেনি তাকে। এবার বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। কারিমার স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার। আর বিসিএস দিয়ে একটা সরকারি চাকরি পাওয়া। কিন্তু চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে যাওয়া কারিমা জানে না আদৌ সে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে কিনা।’

রীনা তালুকদার জানান, বাংলা ট্রিবিউনের এ প্রতিবেদন তার নজরে আসলে কারিমার লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান নেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সংবাদটি দেখার পর মেয়েটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিই। আর্থিক অসামর্থ্যের জন্য একটা মেধাবী মেয়ের জীবনের আশা পুরণ হবে না, এটা হতে পারে না। তাই তার পাশে দাঁড়ালাম।’

কারিমার মা নাসিমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী অনেকদিন ধরে অসুস্থ। দু’টি বাসায় কাজ করে মাসে মাত্র তিন হাজার টাকা পাই। এই টাকা দিয়ে কোনও রকমে খেয়ে না খেয়ে আমাদের সংসার চলে। মেয়ে নিজের ইচ্ছায় ভালো ফলাফল করেছে। কিন্তু এই ভালো ফলাফল খুশি হওয়ার বদলে আমাদের কাঁদিয়েছে।’

মাঝে কারিমা, তার এক পাশে নীল ওড়না পরিহিত মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রীনা তালুকদার, অন্য জন কারিমার মা নাসিমা বেগম (ছবি- প্রতিনিধি)

তিনি আরও বলেন, ‘কারিমার লেখাপড়ার জন্য আজ (শুক্রবার) টাকা দিয়েছেন রীনা তালুকদার। কারিমাকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং সেন্টারে ভর্তির ব্যবস্থা করেছেন বলেও জানিয়েছেন।’

রীনা তালুকদারকে ধন্যবাদ জানিয়ে নাসিমা বেগম বলেন, ‘এভাবে সমাজের বড়লোকেরা যদি অসহায়দের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আমাদের মতো লোকদের আর দুঃখ থাকে না।’

কারিমা খাতুন বলে, ‘ভালো ফলাফলের পর পারিবারের অসচ্ছলতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবো না ভেবে খুবই খারাপ লাগতো। মনে করতাম, আমরা গরিব, আমার ভালো প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করতে নেই। কিন্তু রীনা অ্যান্টির সহায়তায় আমি নতুন করে স্বপ্ন দেখছি। সবার কাছে দোয়া চাই, আমি যেন বড় হয়ে এভাবে অসহায়ের পাশে দাঁড়াতে পারি।’

বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষক কুলছুম বেগম বলেন, ‘অনেক প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে মেয়েটি লেখাপড়া চালিয়ে এপর্যন্ত এসেছে। তাকে একদিন তার মায়ের সঙ্গে ইট ভাঙতে দেখে আমার চোখে পানি এসে যায়। মেধাবী এই মেয়ের পাশে যিনি দাঁড়িয়েছেন, তাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না।’

আরও পড়ুন–

কারিমার স্বপ্ন কি সফল হবে?