আন্দোলন ও ধর্মঘটের কারণে আমদানি-রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকার সমিতি (বিজিএমইএ)। গত কয়েক দিন নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং তার পরবর্তী সময় পরিবহন মালিক শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটের কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (০৮ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকার বিজিএমইএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির প্রথম সহ-সভাপতি মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু এ কথা জানান।
চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক অবস্থা ও ঈদুল আজহার প্রাক্কালে পোশাক শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে সংগঠনটি।
সভায় মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু বলেন, ‘ঢাকায় বাস দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন জাতির বিকেককে নাড়া দিয়েছে। পরিবহন সেক্টরের অব্যবস্থাপনা তারা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ছাত্ররা ক্লাসে ফিরে গেলেও পরবর্তী দুই দিন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে মানুষের ভোগান্তি হয়েছে। তাদের আন্দোলনে আমদানি-রপতানি বিঘ্নিত হয়েছে। সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প। এসময় পোশাক শিল্পের আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহন করা যায়নি। রফতানি পণ্য যথাসময়ে জাহাজিকরণে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ডিসকাউন্ট দিতে হবে অধিক ভাড়ায় বিমানে পাঠাতে হবে।
তিনি বলেন,‘শুধুমাত্র গত ৫ আগস্ট ধর্মঘটের কারণে রফতানির জন্য তৈরি পোশাকের এক হাজার ১৬৮টি বক্সের কন্টেইনার ছাড়াই ৫টি জাহাজ বন্দর ছেড়ে গেছে। এতে সংশ্লিষ্ট রফতানিকারকরা প্রচুর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।’
পরিবহন ধর্মঘটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রফতানিকারকদের শ্রমিকদের ঈদুল আযহার বেতন বোনাস দিতে কষ্ট হবে বলে জানান বিজিএমইএ’র এই নেতা।
মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু বলেন, গত রমজানের ঈদে আমরা শতভাগ কারখানায় বেতন ভাতা পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছি। আশা করছি ঈদুল আজহার মাসেও আমরা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে সক্ষম হবো। তবে সাস্প্রকিত আন্দোলনের কারণে যেসব রপতানিকারক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের পক্ষে সময় মতো শ্রমিকদের মুজুরি পরিশোধ করা কষ্টসাধ্য হবে। তারপরও আমাদের চেষ্টা থাকবে যথাসময়ে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার।
বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ফেরদৌস, পরিচালক মো. সাইফ উল্লাহ, আমজাদ হোসেন চৌধুরীসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।