সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৮ জন নিহত

বিদ্যুৎ বিভাগের পাশাপাশি গ্রামবাসীকের দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদন

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের কাঁদাই গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় নিহতদের পাশাপাশি গ্রামবাসীকে দোষারোপ করেই তদন্ত  প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এ ঘটনায় গঠিত বিভাগীয় কমিটি।  নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি-নেসকো’র রাজশাহী অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিমের কাছে বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে অনুমোদনহীন নিজেদের ইচ্ছেমতো নন-স্ট্যান্ডার্ড লাইন টানানোর জন্য গ্রামের বাসিন্দাদের দায়ি করা হয়েছে। এছাড়া পানির মধ্য দিয়ে টঙ ঘর নিয়ে যাবার সময় টানাহেচড়ার কারণে বিদ্যুতের তার ছেঁড়ার ঘটনায় নিহত ও আহতদের বোকামির কথা বলা হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিনেও লাইন সংস্কার না করা ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ফেলে রাখা এবং অবৈধ গ্রাহকের তথ্য জানার পরও সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার অভিযোগে সিরাজগঞ্জে নেসকো’র দায়িত্বপ্রাপ্ত আবাসিক ও নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহনেয়াজ, উপ-সহকারী প্রকৌশলী বনী আমিন ও মিটার রিডার নুরুল হুদাকে দায়ী করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির জন্যও তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।

নেসকোর তদন্ত দলের প্রধান পাবনা অঞ্চলের তত্বাবধায় প্রকৌশলী আবুল হোসেন বলেন, ‘তদন্তে দেখা যায়, গ্রাহক বিদ্যুত বিভাগ থেকে যেভাবে অনুমোদন নিয়েছেন, অনুমোদিত চিহ্নিত স্থানে তারা ঠিক তেমনভাবে পরবর্তীতে সংযোগ স্থাপন করেননি। সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও জনপ্রতিনিধিদের ডিও লেটারে পবিস এলাকায় নেসকো বা পিডিবির বিদ্যুত সংযোগের আবেদন করা হয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ লাইনের জন্য বিদ্যুত বিভাগের পাশপাশি গ্রাহকও দায়ী।

নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান প্রকৌশলী বরাবর জমা পড়লেও তিনি তা হাতে পাইনি। প্রকৃত রহস্য উদঘাটন না হলে ফের তদন্ত করা হবে। সাবেক নির্বাহী ও আবাসিক প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও হামিদুর রহমান সিরাজগঞ্জে অতীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। তাদেরও তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে। অভিযুক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই কাঁদাই গ্রামে পুরাতন টিনের একটি টঙঘর সরাতে গিয়ে নেসকোর বাঁশের খুটিতে টানানো বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ৮ জন নিহন হন।