যে কোনও সংকটে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারি তার প্রমাণ রোহিঙ্গা সংকট: মায়া

কক্সবাজারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রীরোহিঙ্গা সংকটের এক বছর পূর্ণ হওয়ার প্রসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, ‘কক্সবাজারের মানুষ গত এক বছরে রোহিঙ্গাদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। যে কোনও সংকটে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারি তার প্রমাণ এই রোহিঙ্গা সংকট। এই সংকটে একটি মানুষও না খেয়ে মারা যায়নি। তবে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এই পুনর্বাসনের জন্য।’

কক্সবাজারের একটি হোটেলে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এই কথা বলেন। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। রোহিঙ্গারা সারাবিশ্বের সবচেয়ে বিপদাপন্ন জাতির মধ্যে একটি, যারা ন্যূনতম মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নাগরিক হিসেবে মিয়ানমার কর্তৃক স্বীকৃতি পায়নি, যেখানে তারা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ এবং সহিংসতার শিকার হয়েছে। এরই ফলে সর্বপ্রথম ৭০ এর দশক, এরপরে ৯০ এর দশক এবং সর্বশেষ গত তিনবছরে তারা বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে অনুপ্রবেশ করেছে। ২০১৭ এর অগাস্টের আগে তিন লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে এসে বসবাস করছিল। রাখাইন রাজ্যে নতুনভাবে সহিংসতা এবং নির্যাতন শুরুর হলে গত বছরের ২৫ অগাস্টের পর আবার সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসে।রোহিঙ্গাদের নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী

আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। এক বছরে সংকট মোকাবেলায় রোহিঙ্গাদের সহযোগিতার বিষয়ে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে রেহিঙ্গাদের তাদের মাটিতে ফিরিয়ে দিতে সবপক্ষকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করাটা জরুরি। সংকটের সুষ্ঠু সমাধানে ডকুমেন্টেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এজন্য ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়াতেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকার, কক্সবাজার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল ও সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কামাল।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের বোর্ড প্রধান ব্যারিস্টার মঞ্জুর হাসান, কক্সবাজার ত্রাণ ও শরণার্থী কমিশনার আবুল কালাম, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, আলোকচিত্রী মাহমুদ রহমান, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন- টেকনাফে রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকা মিয়ানমারে ফেরত