বেনাপোলকে ইউনিফাইড বন্দর হিসাবে গড়তে ১৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে: নৌমন্ত্রী

বেনাপোল চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল সম্মেলন কক্ষ

বেনাপোল স্থল-বন্দরকে ইউনিফাইড বন্দর হিসাবে গড়ে তোলার জন্য ১৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান। তিনি বলেন, ‘বেনাপোলকে ইউনিফাইড বন্দর হিসাবে গড়তে ১৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে।  এর মধ্যে ২৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে যার চেক আজ জেলা প্রশাসকের কাছে প্রদান করা হলো।’

শুক্রবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বেনাপোল চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল সম্মেলন কক্ষে স্থলবন্দরের ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষে গতিশীলতা আনতে গঠিত উপদেষ্টা কমিটির নবম সভায় অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সভার সভাপতি নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের যত রকম সহযোগিতার প্রয়োজন তা করা হবে বন্দর উন্নয়নের জন্য। যদি আরও জমি লাগে তা আপনারা দেখে আমাদের জানান। টাকার সমস্যা নেই। আমরা আরও জমি অধিগ্রহণ করব বেনাপোল বন্দরের জন্য। এখানে যানজট এবং পণ্যজট নিরসনে দ্রুত জায়গা নিয়ে টার্মিনাল ও আমদানি পণ্য রাখার স্থান নিশ্চিত করতে হবে।’

এসময় নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান বলেছেন, ‘আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে  মাত্র ২৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে ১১১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে রিজার্ভ ছিল মাত্র সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে চট্রগ্রাম বন্দরের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা। মোংলা বন্দরের লোকসান ছিল ১১ কোটি টাকা। আজ সেখানে ৭৫ কোটি টাকা লাভে দাঁড়িয়েছে। বেনাপোল বন্দরকে আরও উন্নত করতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে ১৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। আওয়ামলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়।  আওয়ামীলীগ সরকার ২৩টি বন্দরকে গেজেটভুক্ত করেছে। ইতোমধ্যে নদী পথে আমদানি বাড়াতে দেড় হাজার কিলোমিটার নদী খনন বা ড্রেজিং করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশকে আরও গতিশীল করে স্বল্প-উন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। আগামীতে বাংলাদেশকে যাতে উন্নত রাষ্ট্রে উন্নীত করা যায়, সেই লক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন নৌ-পরিবহন সচিব আব্দুস সামাদ, বাংলাদেশ স্থল বন্দরের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী, যুগ্মসচিব হাবিবুর রহামান, বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন, খুলনা পুলিশের ডিআইজি মো. নাহিদ হোসেন, যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আউয়াল, বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী, স্থলবন্দরের সদস্য জাহিদুল হক, বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক আমিনুল ইসলাম, বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলাম, যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, বিজিবির টুআইসি মেজর নজরুল ইসলাম, শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মণ্ডল, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আবু সালেহ মাসুদ করিম, শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম মশিউর রহমান, বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন, সহসভাপতি আলহাজ্ব নুরুজ্জামান, যশোর চেম্বার অব কমার্সের প্রশাসক হুসাইন শওকত, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকন, ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ড পোর্ট সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিউর রহমান প্রমুখ।