এনজিও কর্মী বন্যা গুহ বলেন, ‘চিতলমারী বাজার থেকে এই গরুর কথা শুনে পিসিকে সঙ্গে নিয়ে গরু দেখতে এসেছি। এতবড় জমজ গরু দেখে আমি মুগ্ধ।’
গরু দেখতে নালুয়া বাজার থেকে হিজলায় সাইকেল চালিয়ে এসেছে খালিদ খন্দকার ও তা বন্ধুরা। সে জানায়, এত বড় গরু তাদের এলাকায় রয়েছে জেনে তারা আনন্দিত। সবাই মিলে ছুটির দিনে সাইকেল চালিয়ে এসেছে গরু দুটি দেখতে।
তিনি আরও জানান, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা বা অন্য কোনও বড় হাটে লাল্টু-বল্টুকে নিয়ে বিক্রির ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যদের আপত্তির কারণে তিনি স্থানীয় হাটেই ষাঁড় দু’টিকে বিক্রির সিন্ধান্ত নেয়। তবে হাটে নেওযার আগেই শুক্রবার দুপুরে হিজলা ইউপি চেয়ারম্যান ও তার বন্ধু কাজী আজমীর আলী ষাঁড় দু’টি সাড়ে ৬ লাখ টাকায় কিনে নেয়। বন্ধু চেয়ারম্যান মুনজুরুল আলমের প্রতিবেশীও বটে। চেয়ারম্যান তার বাবা শতবর্ষী আব্দুল হকের আগ্রহ ও ইচ্ছা অনুযায়ী ওই যমজ ষাঁড় দু’টি ক্রয় করেন। তার গ্রামের মানুষ খেতে পারবে এই ভেবেই বাড়তি দামের আশা ত্যাগ করে মুনজুরুল আলম ষাঁড় কাজী আজমীর আলীর কাছে বিক্রি করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আজমীর আলী বলেন, বাবার ইচ্ছা পূরণের জন্য তার এই গরু কেনা। এরই মধ্যে তিনি কোরবানির জন্য আরও একটি গরু কিনেছেন। কিন্ত বাবার ইচ্ছা তাদের গ্রামে আলোচিত এই জমজ ষাঁড় কিনে গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে এক টুকরা হলেও ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। বাবার ইচ্ছার প্রতিফলনের জন্যই তিনি সাড়ে ৬ লাখ টাকা দিয়ে ওই ষাঁড় দু’টি কেনার সিন্ধান্ত নেন। ষাঁড় কিনলেও কাজী আজমীর হোসেন কোরবানির আগ পর্যন্ত ওই খামারের রাখালের কাছেই রাখছেন তার ষাড় লাল্টু-বল্টুকে।
বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) ডা. সাইফুজ্জামান জানান, বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলায় ছোট-বড় ৭ হাজারের অধিক গরুর খামারে ব্রাহমা, ফ্রিজিয়ান, সিন্দি, শাহিওয়ালসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের গরু পালন হচ্ছে। গরু, ছাগল, ভেড়াসহ এবার লক্ষাধিক পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।