এ মহাসড়ক সংস্কার কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দু’টির বিরুদ্ধে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। তারপরও প্রতিষ্ঠান দু’টি দু’দফায় প্রকল্প ব্যয় ৩২ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে।
বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেছেন,৩০ জুন মহাসড়কের সংস্কার কাজ শেষে করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটি বিল তুলে নিয়েছে। তবে গত কয়েক দিনের ভারী ও হালকা বর্ষণ এবং ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকায় সড়কের কিছু স্থানে ছোটখাটো খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা মেরামত করে দিচ্ছে।
বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সওজ বিভাগের অর্থায়নে ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৩ কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে ৩ ফুট করে সম্প্রসারণ ও সংস্কারের জন্য ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এম এম বিল্ডার্স ও এম এস এএম পিজেভি লিমিটেড নামের দু’টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কার্যাদেশ পায়।
একই দাবি করেন আরেক ঠিকাদার মেসার্স এমএম বিল্ডার্সের মালিক নাসির উদ্দিন আহম্মেদ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,উজিরপুরের জয়শ্রী থেকে ভূরঘাটা সড়কের অধিকাংশ স্থানে পিচ ও পাথর উঠে সড়কে ছোট ছোট অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের কয়েকটি স্থানে রাস্তা ফেটে গেছে। কোথাও কোথাও রাস্তা দেবে গেছে। ২৩ কিলোমিটার সড়কের ৭/৮টি স্পটে জোড়াতালির কাজ করেছেন ঠিকাদারের লোকজন।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাটাজোর এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ইদ্রিস আলী বলেন,‘সংস্কার কাজ শেষ না হতেই খানাখন্দে ভরে গেছে রাস্তা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় সড়কের বেহাল দশা।’
এ মহাসড়কে চলাচলকারী বাসের চালক সেলিম সরদার, কেরামত আলী প্রমুখ বলেন, মহাসড়কে এ অবস্থার কারণে বাস-ট্রাক চালকরা গত দুই বছর ধরে রাস্তায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে ১৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২০১৮ সালের প্রথম দিকে ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে টেন্ডার আহ্বান করে। টেন্ডারে বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ নামে প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। তারা চার কিলোমিটার বাদে ১২ কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজ শেষ করে। ওই চার কিলোমিটারে বড় গর্তে তারা ইট দিয়ে কোনও রকমে চলাচলের ব্যবস্থা করে দেয়।
এ ব্যাপারে সওজ উপ-সহকারী প্রকৌশলী এম এ হানিফ বলেন, বৃষ্টির মৌসুম শেষ হলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আবারও কাজ শুরু করবেন। বর্তমানে গাড়ি ও লোকজনের চলাচলের জন্য ঠিকাদার বালু ও ইট দিয়ে গর্ত ভরে দিয়েছেন।