পাবনার নয়টি উপজেলার বিভিন্ন হাটে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে গরু, মহিষ ও ছাগলের হাট। পাবনা সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাজিরহাট ও পুষ্পপাড়া হাট এবং ঈশ্বরদীর অরুণখোলা গরুর হাট। বিশেষ করে সপ্তাহে ২ দিন শুক্রবার ও মঙ্গলবার হাজিরহাট বসে। বৃহস্পতিবার ও মঙ্গলবার পুষ্পপাড়া হাট এবং মঙ্গলবার হাট বসে অরুণখোলায়। কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে নামকরা এ তিনটি হাটে বিভিন্ন জাতের গরু, মহিষ ও ছাগলের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য পাবনা সদর থানা পুলিশ ও ঈশ্বরদী থানা পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি হাট ইজারাদার ও তার লোকজন প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।
এবারের ঈদের হাটগুলোতে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা থাকলেও দাম ভালো নেই বড় গরুর। এ বছর গরু-ছাগলের দাম প্রাথমিক পর্যায়ে কিছুটা কম থাকলেও এখন দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে স্থানীয় অর্থাৎ দেশি গরুর চাহিদা অন্য বারের মত এবারও বেশি। তাই গরুর দামটাও বেশি। এক্ষেত্রে খামারীরাও বেশ সন্তষ্ট। অন্যদিকে হাটগুলোতে শেষ মুহূর্তে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। হাজিরহাট ও অরুণখোলা হাটে অল্প কিছু ভারতীয় গরু উঠেছে। তবে সেগুলো অবিক্রিত থেকে যাওয়ার আশংঙ্কা করছেন বিক্রেতারা।
সরেজমিন দেখা যায়, গত শুক্রবার পাবনা সদর উপজেলার হাজিরহাটের গরুর হাট ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। এবার হাটে ছাগলের পাশাপাশি ভেড়াও যোগ হয়েছে। পুরোদমে জমে উঠেছে হাটের বেচাকেনা। হাটে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে দেশি গরু। জেলার অন্যান্য গরুর হাটগুলোতে এবার বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু আসছে। তবে ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে তেমন গরু না আসায় গরু দাম একটু বেশি। তবে বেশি দামে গরু কিনতে ক্রেতাদের আগ্রহের কোনও কমতি নেই। হাটে ছাগলের আমদানীও যথেষ্ট। এ হাটে গত কয়েক হাটের তুলনায় বিক্রিও অনেক বেশি। হাটে ৩০ থেকে শুরু করে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত গরুর দাম চাইছেন বিক্রেতারা। এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার গরু ও ৩০ হাজার টাকার ছাগল বিক্রি হতে দেখা গেছে। সুজানগর উপজেলার আবদুস সুবহানের সুদর্শন ছাগলটির দাম হাঁকছেন ৪০ হাজার টাকা। ৩৫ হাজার টাকা বিক্রি করার টার্গেট তার। তবে ৪৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের গরু বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান ইজারদাররা। তবে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যে কিছু গরু কিছু বিক্রি হয়েছে বলে তারা জানান। ছাগল ও ভেড়া বিক্রি হয়েছে অনেক বেশি। ৮ থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যের ছাগল বিক্রি হয়েছে অনেক বেশি।
নারায়ণপুর থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী আহসান উল্লাহ জানান, তার গরুর দাম ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চেয়েছে কিন্তু তারা ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি দাম দিতে চাইছে না।
আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে হাটের আইন শৃঙ্খলা ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তাসহ রাস্তা-ঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি হাট ইজারাদাররা তাদের নিজস্ব লোকজন নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন ।