কারও ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পথে, কারও চলছে বছরের পর বছর সাজা। কেউ কেউ বিচারাধীন মামলায় আটক রয়েছেন। তারা সবাই পরিবার–পরিজন থেকে অনেক দূরে, গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বন্দি। তাদের জন্য প্রতিবারের মতো এবারের কোরবানির ঈদেও বিশেষ খাবার পরিবেশন করছে কারা কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে মুড়ি-পায়েস, সাদা ভাত, আলুর দম, মাছ, ডিম, পোলাও-মাংস, মিষ্টি, কোমল পানীয় ও পান-সুপারি।
কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার বিকাশ রায়হান জানান, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ এবং পার্ট-২-এর বন্দিদের জন্য সকালে মুড়ি-পায়েস, দুপুরে সাদা ভাত, আলুর দম, মাছ ও ডিম এবং রাতে পোলাও-মাংস, মিষ্টি, কোমল পানীয় ও পান-সুপারি পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কাশিমপুর কারাগার ১-এর সুপার সুব্রত কুমার বালা বলেন, ‘কারাগারের এ অংশে ঈদ করছেন জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, বিএনপির নেতা ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, টাঙ্গাইলের এমপি আমানুর রহমান খানসহ দুই হাজারের বেশি বন্দি। এর মধ্যে ৮৩ জন ফাঁসি ও দেড়শ’ জনের মতো যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ঈদের দিন কারাগারে অভ্যন্তরে বন্দিদের জন্য দুইটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে সাধারণ বন্দিদের জন্য একটি এবং ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারেরও আয়োজন করা হয়।’
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২-এর সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুব্রত কুমার বালা জানান, কারাগারের এ অংশে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা আসনের এমপি এম এ হান্নানসহ প্রায় তিন হাজার বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে ১৩৯ জন ফাঁসির আসামি ও পাঁচশ’ যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এ কারাগারে চারটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের সুপার শাহজাহান জানান, তার অংশে সাড়ে সাতশ’ এর মতো নারী বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে ৬৬ জন শিশু। এই ঈদে শিশুদের জন্য নতুন জামা সরবরাহ করা হয়েছে। এখানে ১৮ জন ফাঁসি ও ৩০ জন যাবজ্জীন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রয়েছে। সবার জন্য বিশেষ খাবারও সরবরাহ করা হয়েছে।