বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) নগরীর পদ্মাবতী এলাকায় চামড়াপট্টিতে গিয়ে কথা হয় বরিশাল চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান শাহিনের সঙ্গে। তিনি জানান, এ বছর মহানগরী ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৪০ হাজার পিস চামড়া কেনার টার্গেট রয়েছে তাদের। চামড়ার দাম কম হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কী করবো ভাই, ঢাকার ট্যানারি মালিকরা তিন বছর ধরে বকেয়া টাকা দিচ্ছেন না। আগের বছরগুলোতে দেওয়া চামড়ার বিপরীতে তারা মাত্র ১০ থেকে ১৫ ভাগ টাকা পরিশোধ করেছেন। বাকি টাকা কবে পাওয়া যাবে তা অনিশ্চিত।’
তিনি অভিযোগ করেন, ট্যানারি মালিকদের কারণে আজ চামড়া ব্যবসা ধ্বংসের পথে। সরকার চামড়া ব্যবসায় কোটি কোটি টাকা ঋণ দিলেও তারা আমাদের দেনা পরিশোধ করছে না। শাহিন আরও বলেন, ‘এবার সরকার ও ট্যানারি মালিকরা প্রতি বর্গফুট কাচা চামড়া ৩৫ টাকা এবং লবণযুক্ত চামড়া ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। সে অনুযায়ী চামড়া কিনে সব খরচ মিটিয়ে লোকসান ছাড়া কিছুই হবে না। তারপরেও এবারে চামড়া কিনছি।’
আলী আহমদ নামে এক মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী জানান, বরিশালে পিস হিসেবে চামড়া বেচাকেনা হচ্ছে। গরুর চামড়া বড়, মাঝারি ও ছোট পিস যথাক্রমে ৪৫০ থেকে ৫০০, ৩৫০ থেকে ৪০০ ও ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং খাসির চামড়া প্রতি পিস ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
আর বেশ কয়েকজন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে একই তথ্য জানা গেছে। তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘খাসির চামড়া বেচতে গেলে দাম তো দূরের কথা, অনেকে লবণের টাকাও দাবি করেন। তারা বলেন, এবার চামড়ার বাজারের যে অবস্থা, তাতে সব খরচ বাদ দিয়ে চালান ওঠে কিনা সন্দেহ।
প্রতি কোরবানি ঈদকে ঘিরে তারা এই ব্যবসা করেন। আর প্রতিবারই সীমিত লাভ পেলেও এবার লোকসান হবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। কারণ, চামড়া কেনা ও যাতায়াতসহ সব খরচ মিলিয়ে চামড়া প্রতি যে খরচ পড়েছে স্থানীয় আড়তদাররা কিনছেন তার থেকে অনেক কম দামে।