স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাদের অভিযোগ, গত তিন বছরে তুষার নিজের বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এরমধ্যে উপজেলার ইছাকুড়ি, শৌলমারী ও বাইটকামারী গ্রামে হামলা চালিয়ে বাড়ি দখল, জমি দখল ও পুকুর দখল করেছে তারা। এছাড়াও ইভটিজিংসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ প্রসঙ্গে রৌমারী উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সোহেল রানা বলেন, ‘তুষারের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি (২০ আগস্ট রাতে) সে ও তার বাহিনীর সদস্যরা রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিনু ও রাজু আহম্মেদ খোকাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ছাত্রলীগ সদস্য মণ্ডল মিয়া (২৪) উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকির হোসেনকে রক্ষা করতে গেলে তার দুই হাত কেটে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে রৌমারী হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে বলেন। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের রৌমারী সদর ইউনিয়ন সভাপতি রাজু আহম্মেদ খোকা নিজে বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।’
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) এস আই রুহুল আমিন জানান, ‘আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, যা তদন্তাধীন রয়েছে।’
এ বিষয়ে রৌমারী সদর ইউনিয়নের সভাপতি রাজু আহম্মেদ খোকা বলেন, ‘তুষারসহ তার বাহিনী মানুষের কাছে চাঁদাবাজি করে আসছে। তার চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছেন।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিনু বলেন, ‘তুষারের অপকর্মের হিসাব দেওয়া মুশকিল। তাকে এখনই বহিষ্কার না করলে আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। আওয়ামী লীগে কোনও চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর স্থান নেই।’
রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি জাকির হোসেন জানান, ‘সে (তুষার) আমাকেই আক্রমণ করার সাহস দেখায়। তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা। আমি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতিকে বলেছি, তুষারকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজ্যুলেশন কর। আমি সুপারিশ দিয়ে জেলায় পাঠাব। বর্তমান সরকারের আমলে এরকম সন্ত্রাসীদের স্থান আওয়ামী লীগে থাকতে পারে না।’
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রৌমারী উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সালমান ফারসি তুষার। তিনি বলেন, ‘এগুলো আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। একটি মহল আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব অভিযোগের কোনও প্রমাণ পাওয়া গেলে আমি যেকোনও শাস্তি মাথা পেতে নেবো।’
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তুষার বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর হামলা চালাইনি বরং স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার কাছে পাওনা টাকা চাওয়ায় তাদের লোকজন আমার ও আমার লোকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা আমার দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে। সে সময় বঙ্গবন্ধুর ছবিও ভেঙে ফেলা হয়েছে।’
রৌমারী উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সালমান ফারসি তুষারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রকিবুজ্জামান রাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। আমরা খুব শিগগিরই একটি তদন্ত কমিটি করে তুষারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত করবো। অভিযোগের সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আরও জানান, রৌমারী উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটির মেয়াদ অনেক আগে শেষ হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রত আমরা নতুন কমিটি করার ব্যবস্থা নেবো।
প্রসঙ্গত, তুষারকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে ২১ আগস্ট রৌমারীতে প্রতিবাদ সভা করেছে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। সভায় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সোহেল রানা সোহেলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকির হোসেন, সহ-সভাপতি এমএ মোমেন ও এনআর জাহাঙ্গীর আলম রবু, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিনু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদ শাহনেওয়াজ তুহিন, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি রাজু আহম্মেদ খোকাসহ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সালমান ফারসি তুষার ৩ বছর আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কিছু দুষ্কৃতিকারীকে নিয়ে বাহিনী বানিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, জমি দখল, পুকুর দখল, মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে; যা দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে।’