সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘নন্দীগ্রাম থেকে তালোড়া, তালোড়া থেকে দুপচাঁচিয়া ও দুপচাঁচিয়া থেকে আক্কেলপুর পর্যন্ত ৫৮ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। ছোট সংস্কার করে লাভ হবে না। তাই ১৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে প্রকল্পের জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আছে। আশা করি, আগামী দেড় মাসের মধ্যে প্রকল্প অনুমোদন হবে। আর তারপরই দীর্ঘ ওই সড়কটি সংস্কার শুরু হবে।’
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তরে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলা। দুপচাঁচিয়ার ওপর দিয়ে বগুড়া-আক্কেলপুর সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বগুড়া থেকে বিপুল সংখ্যক বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন আক্কেলপুর হয়ে জয়পুরহাট ও দিনাজপুরের হিলি স্থল বন্দরে যাতায়ত করে। এ সড়কের পাশে দুপচাঁচিয়া উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদাম ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। খাদ্য গুদামে নিয়মিত ধান, চাল ও গম বোঝাই ট্রাক আসা-যাওয়া করে।
এছাড়া সড়কের পাশেই আক্কেলপুর উপজেলার গোপিনাথপুরে মাসব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মেলা বসে। এই সড়কটি দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর, গুনাহার ও চামরুল ইউনিয়নের লোকজনের উপজেলা সদরের যাতায়াতের একমাত্র পথ। সংস্কারবিহীন এই সড়কের বিভিন্ন স্থানের পিচসহ কার্পেটিং এর পাথর ওঠে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। দুপচাঁচিয়া থেকে জিয়ানগর পর্যন্ত সড়কটি সড়ক ও জলপথ বিভাগ চলতি বছরে অস্থায়ীভাবে সংস্কার করলেও তা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে।
দুপচাঁচিয়া জিয়ানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম তালুকদার, চামরুল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ শাহজাহান আলী জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে সড়কটি সম্প্রসারণসহ বড় আকারের সংস্কারের পদক্ষেপ নিলেও অজ্ঞাতকারণে তা মাঝ পথে থেকে যায়। সম্প্রতি সড়কটির কিছু সংস্কার করলেও বর্ষা আসার আগেই একই অবস্থা হয়েছে। খানাখন্দে ভরা সড়কে জনগণ ও যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এতে জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিরা অবিলম্বে দুপচাঁচিয়া-আক্কেলপুর সড়কটি সংস্কারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।