সোনারগাঁয়ে বকেয়া বেতনের দাবিতে গার্মেন্ট শ্রমিকদের বিক্ষোভ

 

নারায়ণগঞ্জনারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বকেয়া বেতনের দাবিতে এবং বিনা নোটিশে কারখানা বন্ধ করার প্রতিবাদে গার্মেন্ট শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বুধবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার মেঘনা শিল্পনগরী এলাকায় মিলেনিয়াম স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং নামের একটি গার্মেন্ট কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন কারখানাটির শ্রমিকরা। পরে কাঁচপুর শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বকেয়া বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন বলে আশস্ত করলে শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মেঘনা শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত মিলেনিয়াম স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং নামের কারখানাটিতে গত দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করেই বিনা নোটিশে গার্মেন্টের মুল গেইটে তালা ঝুলিয়ে দেয় প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। ঈদের পর ছুটি শেষে বুধবার সকালে সব শ্রমিক কাজে যোগ দিতে এসে দেখেন তাদের কারখানার মূল ফটকে তালা ঝুলছে। পরে শ্রমিকরা কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের গেইট বন্ধের কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, কর্তৃপক্ষ গার্মেন্ট অনিদিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে দিয়েছেন। এ খবর শুনে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে বকেয়া বেতন ও বিনা নোটিশে কারখানা বন্ধ করার প্রতিবাদে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

গার্মেন্ট শ্রমিক ইমাম হোসেন, সালমা আক্তার, মনি মুক্তা, রতন মিয়াসহ কয়েকজন শ্রমিক জানান, গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের দুই মাসের বেতন বকেয়া রেখেই বিনা নোটিশে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন। দুই মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় ছেলে মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমাদের বাসা ভাড়া ও মুদি দোকানে বাকি পড়ে গেছে। বেতন পরিশোধ না করলে কীভাবে বাসা ভাড়া ও দোকানদারের পাওয়ানা টাকা পরিশোধ করবো এই ভেবে চিন্তিত হয়ে পড়েছি। তারা বলেন, হঠাৎ করে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা কোথায় গিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করবো?

মিলেনিয়াম স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং গার্মেন্টের ব্যবস্থাপক তানভির আহম্মেদ বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানটি কয়েক মাস ধরে লোকসানে চালাতে হচ্ছে তাই বাধ্য হয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছি। এখানে যারা কর্মরত আছেন তাদের আমাদের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে যোগদান করতে বলা হয়েছে।’

শিল্প পুলিশ কাচঁপুর ক্যাম্প ইনচার্জ বসির আহমেদ জানান, মিলেনিয়াম স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং কারখানার শ্রমিকরা তাদের বকেয়া পাওনার জন্য বিক্ষোভ করেছে। পরে পুলিশ গিয়ে মালিকপাক্ষের সঙ্গে কথা বলে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর ও ১০ সেপ্টেম্বর লেবার আইন অনযায়ী শ্রমিকদের সব বকেয়া পরিশোধ করা হবে এমন আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা বাড়ি ফিরে যান।