কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রংপুরে চলতি আমন মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ এক লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। গত আমন মৌসুমে ধানের দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা ধান চাষে উৎসাহিত হয়ে এবার অধিক জমিতে ধান চাষ করেছেন। কিন্তু এবার ভরা বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টি নেই। বৃষ্টি না হওয়ায় বিশেষ করে উঁচু জমিতে রোপণ করা আমন ধানের গাছ শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে পোকাসহ নানান রোগ বালাই দেখা দিচ্ছে।
এদিকে রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১৭২ মিলিমিটার, অথচ গত বছর এ মাসেই বৃষ্টি হয়েছিলো পাঁচশ ৭৩ মিলিমিটার। কৃষকরা বলছেন, বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে রোপণ করা চারাগুলো লালচে রং ধারণ করে মারা যাচ্ছে। ধান ক্ষেত সজিব রাখতে দিনে দুবার করে সম্পূরক সেচ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে জমিতে সেচের পানিও থাকছে না।
সরেজমিন রংপুরের সদর উপজেলার পালিচড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ধান ক্ষেতে পানি না থাকায় ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা ক্ষেতে স্যালো টিউবওয়েল দিয়ে পানি দিচ্ছেন। ওই এলাকার কৃষক সাদেকুল ইসলাম ও জাবের আলী জানান, আমন ক্ষেতে স্যালো টিউবওয়েল দিয়ে পানি দিয়ে হবে না। এখানে আল্লাহর দেওয়া পানি লাগবে অর্থাৎ বৃষ্টির পানি লাগবে। তারা বলেন, ‘আমন ধান বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে অন্য পানি দিয়ে কাজ হবে না।
মমিনপুর ও নগরীর বড়বাড়ি, ডাঙ্গিরপাড়, বিনোদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানির অভাবে ধান ক্ষেতের করুন দশা। ওই এলাকায় সালাম জানান, সেচের পানি দিয়ে দিনে দুবার জমিতে পানি দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে পোকা দমন করার জন্য জমিতে বালাইনাশক স্প্রে করতে হচ্ছে। এতে করে খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।’
এমনি অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষকরা বলছেন, আমন ধান সম্পূর্ণ বৃষ্টি নির্ভর হওয়ায় সম্পূরক সেচ দিয়ে এ ধানের ফলন ভালো হবে না। ফলে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।
এ ব্যাপারে রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আলী জানান, এবার রংপুরে এমনিতেই বৃষ্টিপাত খুবই কম হচ্ছে। অন্যদিকে প্রচণ্ড গরম আর বিরুপ আবহাওয়া বিরাজ করছে। দিনের বেলায় তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রিতে নেমে আসছে। তিনি জানান, চলতি মাসে বৃষ্টির পরিমাণ খুবই কম। তবে ২/৪ দিনের মধ্যে বৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে কৃষি সস্প্রসারণ কর্মকর্তারা বৃষ্টি না হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন,‘জমিতে বেশি সম্পূরক সেচ না দিলেও চলবে। যেহেতু বৃষ্টি হচ্ছে না সে কারণে আপাতত সম্পূরক সেচ দেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ’
এ ব্যাপারে রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আফতাব হোসেন বলেন, ‘এবার বৃষ্টি কম হচ্ছে এটা ঠিক, তবে সম্পূরক সেচ অব্যাহত আছে। ধান ক্ষেতে যত লাইট পাবে ফলন ততই ভালো হবে। তবে একটানা বৃষ্টি না হলে একটু সমস্যা হতে পারে। সে জন্য বিএডিসি ও বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে সার্বক্ষণিক সেচ পাম্প সচল রেখে কৃষকদের পানি সরবরাহ করার জন্য বলা হয়েছে।’