সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে ত্রিপুরা সিমান্তবর্তী বিজয়নগর উপজেলার নোয়াবাদী, মেরশানী, বিষ্ণুপুর, পাহাড়পুরসহ আশপাশের এলাকার প্রতিটি বাগানে এখন মাল্টার সমারোহ। সিংগারবিল ইউনিয়নের নোয়াবাদী গ্রামের বাসিন্দা মাল্টা বাগান মালিক মো. ইসহাক, সোহাগ মিয়া ও মোজাম্মেল হক জানান, কৃষি বিভাগের প্রনোদনায় গত দুই বছর আগে তারা প্রথমবারের মতো বিনামূল্যে মাল্টার চারা এবং অন্যান্য উপকরণ পেয়েছিলেন। পরে তারা বাগানে মাল্টা গাছের চারা লাগিয়ে ছিলেন। শুরুতে গ্রামের মানুষ নতুন এবং চাষাবাদে অপরিচিত ফলটির আবাদ নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। তবে দুই বছর পর এখন প্রতিটি গাছে প্রচুর পরিমাণ মাল্টা ধরেছে। তাছাড়া ফলন ভালো হওয়ায় বাগান মালিকেরা বেশ খুশি।
নিজেদের পতিত জমিতে ফলন ভালো এবং খেতে সুস্বাদু মাল্টা চাষের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন অনেকে। মাল্টা চাষে আগ্রহী নোয়াবাদী গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য মামুন চৌধুরী ও প্রবাস ফেরত স্থানীয় যুবক শাহ আলম জানান, এতদিন লিচু-পেয়ারার বাগান করেছি। এখন মাল্টা বাগান করবো বলে চিন্তা করছি। অন্যদের বাগানে এ বছর মাল্টার আবাদ ভালো হয়েছে। তারা জানান, আগে থেকে আমরা এই ফলটির চাষাবাদ নিয়ে তেমন পরিচিত ছিলাম না। এখন দেখছি অনেকে বাগান করছে। তাই আগামীতে আমরাও আমাদের পতিত (খালি) জমিতে মাল্টার আবাদ করবো।
মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ এ বছর আমি নিজেও মাল্টা বাগান করেছি। দুই বছর পর ফল আসবে বলে আশা করি। আমি মনে করি, প্রতিটি কৃষক তাদের খালি জায়গায় মাল্টা চাষ করে বেশ লাভবান হবেন।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আবু নাসের জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া, কসবা ও বিজয়নগর উপজেলার দুইশ ৪০টি বাগানে বারি-১ জাতের মাল্টার আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল বিজয়নগরে একশ ৩০টি বাগানে মাল্টার আবাদ করা হয়েছে। যা থেকে একশ টনেরও বেশি মাল্টা উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছে কৃষি বিভাগ।