নিহতের নাম মো. ইয়াসের। তার বাবার নাম মোহাম্মদ ইসলাম। তিনি লেদা ক্যাম্পের এফ ব্লকের বাসিন্দা। ২০০৮ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।
রোহিঙ্গারা জানান, এক সপ্তাহ আগে রাতে ইয়াবা পাচারের সময় একটি চালান স্থানীয় প্রশাসনকে ধরিয়ে দেন কয়েকজন প্রহরী। এরই সূত্র ধরে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা দিনেদুপুরে তার বুকে গুলি চালিয়ে থাকতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোহিঙ্গ জানান, স্থানীয় রোঙ্গিখালি এলাকার ‘ডাকাত’ সৈয়দ আলম ও তার ভাই রেদওয়ানের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা যুবক ইয়াসেরকে গুলি করা হয়। এ সময় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে লেদা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি রঞ্জিত কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘একদল দুর্বৃত্ত একজন রোহিঙ্গা প্রহরীকে গুলি করে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’
টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান আব্দুল মতলব জানান, আমাদের শিবিরের একজন প্রহরীকে হত্যা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই শিবিরে পাহারা দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের চালাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। এ কারণেই ইয়াবা ব্যবসায়ীরা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের মা অায়েশা বেগম বলেন, ‘অামার ছেলে গত কিছু দিন অাগে একটি ইয়াবা চালান ধরিয়ে দিয়েছে। এ জন্য ইয়াবা ব্যবসায়ী সৈয়দ অালম ও রেদুওয়ানসহ কয়েকজন যুবক এসে দিন দুপুরে আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে। দুপুরে পানির জন্য গেলে তারা বকাবকিও করেছিল।’
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা শিবিরে ইয়াবা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে পাদদেশে দুই জন নিহত হয়েছিল। এর মধ্যে একজন হ্নীলা ইউপি সদস্য নুরুল হুদার ভাই শামসুল হুদা। অারেকজন লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা রহিম উল্লাহ।