হবিগঞ্জে দুই সন্তানসহ নারীর লাশ উদ্ধার, সন্দেহের তীর স্বামীর দিকে

হাদিছা বেগম ও মজিবুর রহমানহবিগঞ্জের মাধবপুরে দুই শিশুর দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহ এবং তাদের মায়ের গলায় ফাঁস দেওয়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধে উঠেছে। এলাকাবাসী ও স্বজনদের সন্দেহের তীর ওই নারীর স্বামী মজিবুর রহমান মজিদের দিকে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক থাকায় সন্দেহে আরও ঘণীভুত হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কারণ এই দম্পতির বিরোধ নিয়ে একাধিকবার গ্রামে সালিশ বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুকবার (৩১ আগস্ট) রাতে লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ ও এলাকাবাসী প্রথমে ধারণা করেছিল, দুই শিশু সন্তানকে গা কেটে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে মা আত্মহত্যা করেছেন। তবে পরে গৃহবধূর স্বজনরা দাবি করেন, তাদের তিন জনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতে মাধবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ তিনটি উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান মজিদের স্ত্রী হাদিছা বেগম (২৪), তাদের আড়াই বছর বয়সী মেয়ে মীম আক্তার ও ৭ মাসের শিশু সন্তান মোজাহিদ মিয়া।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের নিজনগর গ্রামে ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান মজিদের ঘরে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে আশপাশের লোকজন ওই ঘরের দিকে এগিয়ে যান। ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করলেও কোনও সাড়া মেলেনি। এক পর্যায়ে তারা উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখতে পান মজিবুর রহমান মজিদের ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার স্ত্রী হাদিছা বেগমের লাশ পড়ে রয়েছে। আর খাটে তার আড়াই বছর বয়সী শিশু মিম আক্তারের গলা কাটা লাশ পড়ে রয়েছে।  পরে স্থানীয় লোকজন পেছন দিকে গেলে অপর একটি তালাবদ্ধ কক্ষে ৭ মাস বয়সী মোজাহিদ মিয়ারও গলা কাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।  এ দৃশ্য দেখে তারা মাধবপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেন। রাত প্রায় ১টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালায় পুলিশ

এদিকে ঘটনার পর থেকেই মজিবুর রহমান মজিদ পলাতক থাকায় তাকে ঘিরে সন্দেহ তীব্র হচ্ছে। গ্রামের লোকজন বলছেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একাধিবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিলো না।

হাদিসার বাবা শামীম মিয়া বলেন, ‘এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমার মেয়ে ও তার সন্তানদের মজিদই হত্যা করে পালিয়ে গেছে। কোনও মায়ের পক্ষে তার সন্তানদের জবাই করে হত্যা করা সম্ভব না।’

হাদিসার ভাই দীন ইসলাম বলেন, ‘মজিদ দীর্ঘদিন ধরে আমার বোনকে নির্যাতন করে আসছিল। তবে সন্তানদের কথা চিন্তা করে আমার বোন শত অত্যাচার সহ্য করেছে। কিন্তু এরপরও সে তাদের হত্যা করে পালিয়ে গেছে।’  

গ্রামের মাতব্বর আব্দুর রহিম জানান, ২০১৪ সালে মজিদের সঙ্গে হাদিছা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হচ্ছিলো না।  মজিদের উগ্রমেজাজের কারণে সামান্য বিষয়েও ঝগড়া-ঝাটি লেগেই থাকতো। মজিদ প্রায়ই তার স্ত্রীকে মারধোর করতো।  তিন দিন আগেও মজিদ তার শাশুড়ির সামনে হাদিছাকে মারধোর করে। আব্দুর রহিমের দাবি, হাদিছা ও তার সন্তানদের মজিদ নির্মমভাবে খুন করেছে।

একই গ্রামের বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, ‘আমাদের ধারণা মজিদ তার সন্তানদের হত্যা করে স্ত্রীকে ফাঁস লাগিয়ে পালিয়ে গেছে। এর আগেও সে হাদিসাকে হত্যার হুমকি ধামকি দিয়ে এসেছে। নিখোঁজ থাকার কারণে তার প্রতি সন্দেহের তীর সৃষ্টি হয়।’

এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এস এম রাজু আহমেদ জানান, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো করেছে। তবে কী কারণে হত্যার ঘটনা ঘটেছে পুলিশ গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষেই তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।’

আরও পড়ুন- হবিগঞ্জে দুই সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যার অভিযোগ