সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটাতে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটির সদস্যদের ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর বিকালে তাদের ধানমণ্ডির দলীয় কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে। দলটির দায়িত্বশীল নেতারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তারা জানান, জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় প্রতিটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এলাকার ছোট বড় অনুষ্ঠানে পরস্পরের সমালোচনা করছেন। এতে করে প্রতিটি আসনেই তৈরি হয়েছে অসংখ্য গ্রুপ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দল। এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে এসব নেতার সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলা প্রয়োজন বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। মূলত: কোন্দলে জর্জরিত রাজশাহীর আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে মান-অভিমান ভাঙানো ও নৌকা প্রতীকের জন্য কাজ করার ব্যাপারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে তাদের ঢাকায় ডাকা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক কামরুজ্জামান চঞ্চল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। কিন্তু নেতাদের মধ্যেই তৈরি হয়েছে সমন্বয়হীনতা। এতে করে নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। যে যখন সুযোগ পাচ্ছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে একে অপরের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছে। এতে করে নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে এর মাত্রা ততই বাড়ছে। তাই দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দ রাজশাহীর নেতাদের ক্ষোভ শুনতে ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে নৌকার জন্য কাজ করার ব্যাপারে সবাইকে একসঙ্গে ডেকেছেন। আশা করা যাচ্ছে, সব ভেদাভেদ ভুলে কেন্দ্রের কঠোর সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে কোন্দলটা প্রশামিত হবে—যাতে কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনও বিভেদ তৈরি না হয়।
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী জানান, ‘জেলা আওয়ামী লীগের চলমান অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং নিরসনে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের প্রয়োজন ছিল। সেজন্য আমাদের ডাকা হয়েছে।’
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা করার জন্য জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগকে ডাকা হয়েছে। সংগঠনের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধান নেত্রীকে দিতে হবে। সংসদ নির্বাচনের আগে এটা রুটিন ওয়ার্ক। ইতোমধ্যেই জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সবাইকে ঢাকার মতবিনিময় সভায় যোগ দেওয়ার জন্য বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেছেন, ‘কেন্দ্র থেকে কার্যকরী কমিটিকে ঢাকায় আসার জন্য বলা হয়েছে। সেটা সবাইকে জানানো হচ্ছে। এখানে আমাদের সঙ্গে কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করবেন।’