টাকা পরিশোধ না করে কুমিল্লার মা ও শিশু হাসপাতালে নবজাতককে রেখে লাপাত্তা হয়েছিলেন অভিভাবক। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে সেই নবজাতকের পিতা-মাতার বাড়ির ঠিকানা খুঁজে বের করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, শিশুটির বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের ফুলছোয়া গ্রামে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক বদিউল আলম বলেন, ‘১৮ আগস্ট হাসপাতালে এসেছিলেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের শাহ আলম ও রোকেয়া বেগম দম্পতি। রোকেয়া বেগমের ছেলে সন্তান হয়। কিন্তু ২৪ আগস্ট বিকাল থেকে শাহ আলম ও রোকেয়ার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। বাচ্চাটি এখন আমাদের কাছে আছে এবং ভালোই আছে। পুলিশও শিশুটির অভিভাবকদের সন্ধান করছে।’ এ বিষয়ে হাসপাতালের পক্ষ থেকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ করা হয় বলেও জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে এসআই সৈয়দ ফারুক হোসেন জানান, শাহ আলমের গ্রামের ঠিকানা নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওই এলাকার চেয়ারম্যানের সঙ্গেও আলাপ হয়েছে। শিশুটির পিতা শাহ আলমের ভাইয়ের সঙ্গেও কথা হয়েছে। চেয়ারম্যান শিশুটিকে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছেন।’
শাহ আলমের ভাই পুলিশকে জানিয়েছেন, শিশুটি খুবই অসুস্থ ছিল। সে বাঁচবে না ভেবেই হয়তো তার ভাই স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে এসেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটির পরিবার বা স্বজনদের কাউকে না পেয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে শিশুটির দেখভাল করছে হাসপাতালের লোকজন। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল প্রায় সাতশ’ গ্রাম। নির্ধারিত সময়ের বেশ আগে গর্ভধারণের মাত্র সাত মাসের মাথায় শিশুটির জন্ম দেন রোকেয়া বেগম। এর আগে রোকেয়া বেগমের দুটি সন্তান হয়েছিল কিন্তু একটিও বাঁচেনি।
হাসপাতালের পরিচালক বদিউল আলম বলছেন, ‘তাদের আগের দুটি শিশুও নির্ধারিত সময়ের আগে- একটি সাত মাসে ও আরেকটি ৯ মাসে জন্ম নিয়েছিল। এবারের শিশুটিও সাত মাসে জন্ম নিয়েছে। আগের দুটি না বাঁচায় হয়তো এবারও একই অবস্থা হবে বলে তারা ধারনা করেছিল। এদিকে হাসপাতালের শিশুটির চিকিৎসার ব্যয় দাঁড়িয়েছে এক লাখ টাকারও বেশি। শিশুটি এখন ভালো আছে। আমরা তাকে তার স্বজনদের হাতে তুলে দিতে চাই।’
এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবু ছালাম মিয়া বলেন, ‘ঠিকানা শনাক্ত হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে শিশুটির মা-বাবাকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নিয়ে আসবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।’