ধার নেওয়া দুই হাজার টাকা সময়মতো ফেরত না-দেওয়ায় রাসেল মোল্লাকে (২৬) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও পরে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছে তারই বন্ধু আল মামুন (১৯)। পুলিশের কাছে গ্রেফতার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আল মামুন একথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলাম মোল্লা।
পুলিশ জানায়, রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে আল মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে সহযোগী ইমাম হোসেনকে (২০) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার আল মামুন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বেলতৈল গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে ও ইমাম হোসেন একই গ্রামের হেলিম উদ্দিনের ছেলে। তারা রাজেন্দ্রপুরে (আরপিগেট বাজারে) বাসা ভাড়া নিয়ে একই এলাকায় (সাটিয়াবাড়ি) একটি গার্মেন্টস কারখানায় অপারেটর হিসেবে চাকরি করতো।
এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম মোল্লা জানান, রাসেল রাজেন্দ্রপুর এলাকার গার্মেন্টস কারখানায় অপারেটর হিসেবে চাকুরি করতো। ৮ আগস্ট সকাল ৭টায় কারখানায় যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। ১০ আগস্ট বিকেলে স্থানীয়রা বনখড়িয়া গজারি বনের ভেতর গরু চড়াতে গিয়ে লাশ দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের মা রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
পরে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রথমে আল মামুন ও পরে তার দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে ইমাম হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মামুন তার বন্ধু রাসেলকে হত্যার কথা স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দেয়। মামুন জানায়, কারখানায় চাকরি করার সময় তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব হয়। বন্ধুত্বের সূত্রে দুই হাজার টাকা ধার নেয় রাসেল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দেওয়ায় দুই বন্ধুর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
পরে ৮ আগস্ট বিকালে আল মামুন পাওনা টাকা দেওয়ার জন্য রাসেল মোল্লাকে ফোন করে রাজেন্দ্রপুর বাজারে নিয়ে আসে। এর আগে মামুন তার সহযোগী ইমামকে সঙ্গে নিয়ে রাজেন্দ্রপুর বাজার থেকে একটি হাতুড়ি ক্রয় করে। হাতুড়িটি ইমামের কোমড়ে লুকিয়ে রাখা হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজেন্দ্রপুর বাজারে রাসেল মোল্লার সঙ্গে তাদের দেখা হয়। রাসেল পাওনা টাকা দেওয়ার জন্য মামুনকে তার সঙ্গে তাদের বাড়িতে যেতে বলে। তারা তিন বন্ধু রাত সাড়ে ৮টায় রাজেন্দ্রপুর রেলস্টেশন থেকে পায়ে হেঁটে রাসেলের বাড়ি যাওয়ার পথে রওনা হয়। কিন্তু রাস্তায় পাওনা টাকা নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর ওই সড়কের বনখড়িয়া গজারি বনের ভেতর মামুন ও তার সহযোগী ইমাম রাসেলকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। রাসেল মাটিতে পড়ে গেলে ইমাম হোসেনের প্যান্টের বেল্ট খুলে গলায় ফাঁস দিয়ে রাসেলের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পরে তারা রাসেলের সঙ্গে থাকা মুঠোফোন ও বেতনের ৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতার দুই জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার এসআই শহিদুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হামিদুল ইসলামের আদালতে রাসেল মোল্লাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতার মামুন ও ইমাম। পরে আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠিয়েছে।’