সুনামগঞ্জে এখনও শুরু হয়নি ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রি

১০ টাকা দরের চালহাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার আজ পর্যন্ত কোথাও শুরু হয়নি ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রি কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী সপ্তাহের মধ্যে জেলায় ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা খাদ্য গুদামের  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামনা রঞ্জন দাস জানান, ‘নীতিমালা অনুযায়ি মাসের  ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরুর বিধান রয়েছে। আমরা বৃহস্পতিবার থেকে ডিলারদের অনুকূলে ডিও দিচ্ছি। তারা আগামী  সপ্তাহের মধ্যে ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রি করবে। একটি এলাকায় সপ্তাহের যে কোনও তিনদিন ডিলার চাল বিক্রি করবেন।’

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারি বিতরণ ব্যবস্থার আওতায় পল্লী অঞ্চলের হতদরিদ্র জনসাধারণকে স্বল্পমূল্যে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রি হবে। এই নীতিমালার আলোকে সুনামগঞ্জের ৮৮ টি ইউনিয়নের ১৮০ জন ডিলারের মাধ্যমে জেলার  ৯১ হাজার ৫৯০ জন কার্ডধারীর মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কথা।

উপজেলা ভিত্তিক হিসেবে সুনামগঞ্জ সদরে  ১৪ হাজার ৫২২ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৬ হাজার ৩৩৭, দোয়ারাবাজারে ৭ হাজার ৮৪৫, ছাতকে ১৪ হাজার ৫১, জগন্নাথপুরে ৯ হাজার ৫০৪, দিরাইয়ে ৮ হাজার ২৭৬, শাল্লায় ৩ হাজার ৮৫৬, ধর্মপাশায় ৮ হাজার ১৭৬, জামালগঞ্জে ৬ হাজার ৩৮০, তাহিরপুরে ৬ হাজার ৮৫৫ ও বিশ্বম্ভরপুরে ৫ হাজার ৭৮৮ জনসগ মোট  ৯১ হাজার ৫৯০ জন কার্ডধারীর মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কথা রয়েছে। 

হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলায় বছরের ৬ থেকে ৮ মাস জলমগ্ন থাকায় বছরের এসময়টায় মানুষের হাতে কাজকর্ম থাকে না।  কৃষিকাজ ও মাছ ধরা ছাড়া বিকল্প কর্মসংস্থানের কোনও  সুযোগ নেই। এসময় হাওরবাসী বেকার দিনযাপন করে থাকেন। বৈশাখ মাসে ঘরে বোরো ধান কেটে ঘরে তোলার পরপর এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। 

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ফারুক আহমদ বলেন, ‘১০ টাকা কেজির চাল বিক্রি যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে হয় এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। এটি অতিদরিদ্রদের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি।’

দিরাই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. গোলাপ মিয়া বলেন, ‘হাওরের মানুষ এমনিতে অনেক পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী।  বছরের এসময় তাদের হাতে কোনও কাজ থাকে না। তাই অতিদরিদ্রদের কার্ডের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করলে আরও বেশি মানুষ এর সুফল পেতো।’ 

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, ‘চিঠি পাওয়ার পরপর আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি। তবে কার্ডগুলো যাচাইবাছাই করতে কিছুটা সময় লাগায় আগামী সপ্তাহ থেকে সারা জেলায় ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রির কার্যক্রম শুরু হবে।  সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন কমিটি হতদরিদ্রদের তালিকা প্রণয়ন করে তাদের তালিকা অনুযায়ী কার্ডের মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করা হবে।  কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারী একজন ৩০ কেজি করে চাল পাবেন। ১০টাকা কেজির চাল বিক্রি কার্যক্রম কঠোরভাবে মনিটরিং করা হয়ে থাকে। কোথাও কোনও অনিয়ম পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিক্রি কার্যক্রম স্বচ্ছ ও সুন্দর করার লক্ষ্যে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন- বিজেএমসি’র কাছে বকেয়া ৫শ’ কোটি টাকা না পেয়ে সঙ্কটে পাট ব্যবসায়ীরা