বগুড়ায় বন্ধুদের সঙ্গে নিজের জন্মদিনের উৎসব পালনের জন্য মাদক কিনতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে শাকিল আহমেদ ওরফে পা কাটা শাকিল ওরফে বি-ক্লাস শাকিল (২৬) নামে এক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এ সময় ছুরিকাঘাতে আহত হন তার সহযোগী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী বিশাল। তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে শহরের চকসুত্রাপুর সুইপার কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার বিকাল পর্যন্ত মামলা হয়নি। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, নিহত শাকিল আহমেদ বগুড়া শহরের চকফরিদ এলাকার শাহ্ জালালের ছেলে। এলাকায় সে বি-ক্লাস শাকিল নামে পরিচিত ছিল। তার বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা, অস্ত্র, অ্যাসিডসহ বিভিন্ন ধারায় ৫-৬টি মামলা আছে। প্রায় এক বছর আগে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শাকিল বাম পা হারায়।
তিনি বলেন, শুক্রবার তার জন্মদিন ছিল। কেক কাটা শেষ হওয়ায় পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বন্ধু শহরের রহমাননগর এলাকার তোতা মিয়ার ছেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী নেতা বিশাল ও একই সংগঠনের কর্মী মিশু বাড়িতে এসে তাকে (শাকিল) ডেকে নিয়ে যায়। জন্মদিন পালন করতে তারা একটি মোটরবাইকে শহরের চকসুত্রাপুর সুইপার কলোনি এলাকায় মাদক কিনতে যায়। সেখানে মাদক কেনার পর ‘সম্বোধন করা’ নিয়ে বিশালের সাথে অন্য সন্ত্রাসীদের বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে ১০-১২ জনের একদল সন্ত্রাসী শালিক ও বিশালকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। অক্ষত মিশু তাদের দু’জনকে বাইকে তুলে নিয়ে সদর থানার কাছে আসে। সেখানে আসার পর পুলিশ রাত ১০টার দিকে ছুরিকাহত দু’জনকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের নেয়।
ছিলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুল আজিজ মন্ডল জানান, রাত ১০টায় জরুরি বিভাগে চিকিৎসকরা শাকিলকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তার বন্ধু বিশালকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিভিন্ন মামলার আসামি শাকিল প্রায় মাস আগে ও বিশাল এবং মিশু দু’সপ্তাহ আগে জামিনে ছাড়া পেয়েছে।
বগুড়া শহর ছাত্রদলের সভাপতি সৌরভ হাসান শিবলু জানান, তার বড় ভাই নিহত শাকিল কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলনা। প্রকাশ্য তার কোন শত্রু নেই। পুলিশের গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত তার ভাইয়ের বাম পা বিচ্ছিন্ন করতে হয়। শুক্রবার রাতে বাড়িতে জন্মদিনের কেক কাটেন। এরপর তার পঙ্গু ভাইকে বন্ধু ১০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বিশাল ও মিশু তাকে বাইকে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তারা শাকিলের মৃত্যু সংবাদ পান। ঘাতকরা ভাইয়ের পায়ে ৩-৪টি ছুরিকাঘাত করেছে; রক্ত ক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, হত্যাকারীদের সনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। বিকাল পর্যন্ত মামলা হয়নি।