চোর সন্দেহে আটক ব্যক্তির মৃত্যু, পুলিশ ও এলাকাবাসীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

চোর সন্দেহে আটক শহিদুলব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় চোর সন্দেহে আটক শহিদুল মিয়া নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তিনি এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। তবে এলাকাবাসীর দাবি, তারা শহিদুলকে কিছু করেননি। লাশ দেখে চিকিৎসক জানিয়েছেন, শহিদুলের শরীরে আঘাতের কোনও চিহ্ন নেই।

মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের বড়চাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শহিদুলের বাড়ি নাসিরনগর উপজেলার ভূবনপুর গ্রামে।

বিজয়নগর থানার ওসি আলী আরশাদ জানান, ‘আজ মঙ্গলবার ভোররাতে হরষপুরের বড়চাল গ্রামে বড়চাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি করতে গেলে শহিদুলকে এলাকাবাসী হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে বিজয়নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বিজয়নগর থানায় নিয়ে আসে। পরে তার বুকে ব্যাথা অনুভব করলে শহিদুলকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’ গণপিটুনিতে আহত হওয়ার কারণেই শহিদুলের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি এই পুলিশ কর্মকর্তার।

জেলা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুল হক জানান, ‘হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে তার শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্যে লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

এ ব্যাপারে হরষপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. আরশাফ মিয়া জানান, ‘গভীর রাতে বড়চাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টয়লেটের মালামাল চুরি করার সময় এলাকাবাসী শহিদুলকে হাতেনাতে আটক করে। এসময় তার সঙ্গীরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকার লোকজন চুরির অভিযোগে আটক শহিদুলকে আমার কাছে নিয়ে আসে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে চেয়ারম্যান সাহেবের অফিসে নিয়ে যাই। তখন চেয়ারম্যান সারোয়ার রহমান ভূঞা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তাকে  থানায় নিয়ে যায়।’

শহিদুলকে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছিলো কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মেম্বার আশরাফ মিয়া বলেন, ‘এলাকার লোকজন তাকে কেউ মারধর করেননি। সুস্থ অবস্থায় আমরা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। পরের ঘটনা পুলিশই ভালো বলতে পারবে।’

আরও পড়ুন- কিশোরের মৃত্যুর গুজবে বেদেপল্লীতে তাণ্ডব, বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ