চা শিল্পাঞ্চলে সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

মৌলভীবাজারে সংস্কৃতিমন্ত্রীসংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেছেন, ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে চা শিল্পের ওপর  জনগোষ্ঠী অনেকটা পিছিয়ে আছে। তাদের সংস্কৃতির বিকাশে আগামীতে চা শিল্পাঞ্চলে একটি সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।’

মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের তেতইগাঁও মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এই কথা বলেন। ‘বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীগুলোর ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতির বিকাশ ও মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালুসহ শিশুশিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়ক সচেতনতামূলক সম্মেলন-২০১৮’তে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গণস্বাক্ষরতা অভিযানের সহযোগিতায় বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরাম ও বাংলাদেশ মণিপুরী আদিবাসী ফোরামের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি ফুলের বাগান। এ বাগানে নানা বর্ণের, নানা রংয়ের ও সুগন্ধের ফুল ফুটে। আর এ ফুলের বাগান সাজিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা উন্নয়নের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বাগানের ফুল হচ্ছে বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষজন। বাংলাদেশে অসংখ্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের বসবাস। এসব নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি বাংলাদেশকে ফুলের বাগানের মতো বিকশিত করে রেখেছে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার পক্ষের অসম্প্রদায়িক সরকার আবারও ক্ষমতায় আসলে দেশের কল্যাণ হবে। সুষ্ঠু সংস্কৃতি চর্চা হবে। তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে আবার আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করতে হবে।’সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির উপস্থাপনা

সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখানে মণিপুরী, খাসিয়াসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতির বিকাশ ও মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালুসহ শিশুশিক্ষার মান উন্নয়নের বিষয়ে কিছু দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। এ কাজগুলো আমার একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। আপনারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রস্তাবনা তুলে ধরলে বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। আর এ জন্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা কর্মরত রয়েছেন। এ সরকারের মেয়াদ আর মাত্র এক মাস আছে। তারপর আবার সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হবে।’

বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের সভাপতি পিডিশন প্রধানের সভাপতিত্বে এবং নারীনেত্রী বিলকিস বেগম ও বামডো সম্পাদক সাজ্জাদুল হক স্বপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল আউয়াল বিশ্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌরভ শিকদার, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল বিপিএম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সদস্য ও কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ড. কানিজ ফাতেমা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক তাহমিনা খাতুন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ তফাদার রেজুয়ানা ইয়াসমিন সুমী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ারুল ইসলাম, বামডো সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মজিদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মণিপুরী আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সমরজিত সিংহ। সেখানে সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়।