প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পানিতে ডুবে থাকে এ মাঠটি। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। খেলোয়াড়রা অনুশীলন করতে পারেন না। এ মাঠেই ক্রিকেট, ফুটবল, হ্যান্ডবলসহ উপজেলা পর্যায়ের সব ধরনের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। মাঠের এ অবস্থার জন্য বন্ধ থাকছে খেলাধুলা। নিয়মিত খেলতে না পারায় হতাশ খেলোয়াড়রা।
অনেক ঐতিহাসিক স্বাক্ষর বহন করে চলেছে মাঠটি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, একাধিক প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের অনেক সদস্য এই মাঠে জনসভা করেছেন। উপজেলার প্রধান ঈদের জামাতও অনুষ্ঠিত হয় এই মাঠে। এছাড়া, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন মেলা, বড় ধরনের সভা-সমাবেশ হয় এখানে। অথচ বিশাল এ মাঠটি যেন এখন অভিভাবকশূন্য। এই মাঠে নিষ্কাশনের কোনও ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। আর বর্ষা মৌসুমে থাকে হাঁটুপানি, যা মাছ চাষের জন্য উপযোগী!
মাঠ সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দুটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর সমাগম ঘটে এ মাঠে। হাঁটুপানিতে ডুবে থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় নিয়মিত খেলাধুলা করতে না পারায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্কুলছাত্র সাজ্জাদ হোসেন জানায়, ‘আমরা বন্ধুরা প্রতিদিন মাঠে ফুটবল খেলতাম। কিন্তু মাঠে পানি জমে থাকায় এখন খেলতে পারি না। কতদিন যে আর মাঠে খেলতে পারবো না, তা বোঝা মুশকিল।’
এক অভিভাবক এনামুল হক বলেন, ‘মাঠ শুকনো থাকলে যুবসমাজ ব্যস্ত থাকে খেলাধুলায়। ফলে মাদকের ছোবল থেকে তারা রক্ষা পায়। যত বেশি ক্রীড়াচর্চা হবে ততবেশি যুবসমাজ মাদক থেকে দূরে থাকবে। কিন্তু এই মাঠের পানি দেখলে মনে হয় এটি একটি পুকুর। এই মাঠটি সংস্কার করা না হলে মহাদেবপুরের যুবসমাজ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।’ তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে মাঠটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।
ফুটবল খেলোয়াড় আলতাফ হোসেন বলেন, ‘উপজেলা সদরে আর কোনও খেলার মাঠ নেই। ডাকবাংলো মাঠটিতে রয়েছে জলাবদ্ধতা সমস্যা। বিষয়টি নিয়ে ইতোপূর্বে আমরা মানববন্ধন করেছি। নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে পানিতে মাঠটি তলিয়ে গেলেও সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙছে না। মাঠটি যাতে বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে না যায় এবং সারা বছর খেলাধুলার উপযোগী থাকে, এমনভাবে সংস্কার করা দরকার।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন পারভেজ বলেন, ‘এ সমস্যা সমাধানে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পানি নিষ্কাশন ও মাঠের উন্নয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’