রবিবার দুপুরে গাইবান্ধা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় কোনও বাস চলাচল করছে না। বাসগুলো সারিবদ্ধ করে রাখা। চালক-শ্রমিক অনেকেই অলস সময় পার করছেন। জানা গেছে, সকাল থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে আসা যাত্রীরা দীর্ঘসময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করছেন। অনেকে জরুরি প্রয়োজনে বেরিয়েও বিফল হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আবার কেউ কেউ বিকল্প পথে রওনা হচ্ছেন গন্তব্যের দিকে।
রৌমারী থেকে আসা আসমা বেগম বলেন, ‘ঢাকায় যাওয়ার জন্য সকালে বাস টার্মিনালে এসেছি। কিন্তু বাস চলাচল না করায় ঢাকায় যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এখন অন্য কোনও বিকল্প পথে যাওয়া সম্ভব কিনা তাও জানি না।’
আবদুর রহিম নামে এক যাত্রী জানান, ছেলের পরীক্ষা আছে সোমবার। এজন্য ছেলেকে নিয়ে সৈয়দপুরে যাওয়ার জন্য বাস টার্মিনালে এসেছি। কিন্তু বাস চলাচল বন্ধ, তাই বিপদে পড়েছি।
কাপড় ব্যবসায়ী আজগর আলী জানান, বাস চলাচল না করায় তাদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। কখন বাস চলাচল শুরু হবে তা অনিশ্চিত। এতে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এমনিতেই বাস চলাচল না করা মানেই যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ। তার ওপর হঠাৎ পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পূর্ব ঘোষণা না থাকায় বাস টার্মিনালে গিয়ে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন।’
তবে গাইবান্ধা জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মকবুল হোসেন বলেন, ‘প্রস্তাবিত সড়ক নিরাপত্তা আইনে জরিমানা ও সাজার বিধান সংশোধনের দাবিতে চালকরা বাস চলাচল বন্ধ করেছে। চালক-শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবি না মানা পর্যন্ত ঢাকাসহ সকল রুটেই বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।’