বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

বড়পুকুরিয়ায় স্থানীয়দের বিক্ষোভদিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ পাওয়ার দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন স্থানীয় শ্রমিকরা। এ সময় তারা গেটের সামনের সড়কে বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেন। আগামী তিন দিনের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া না হলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার হঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।  

সোমবার সকাল থেকে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটের ‘শ্রমিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন পরিচালনা কমিটির’ ব্যানারে শ্রমিকরা এই কর্মসূচি পালন শুরু করে। এ সময় তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের গেটের সামনে অবস্থান নেয়। পরে সকাল সাড়ে ১১ টায় তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বড়পুকুরিয়া বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেন। এ সময় সংগঠনটির সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফুলবাড়ী শাখার সাধারণ সম্পাদক নুর আলম সিদ্দিকসহ অন্যান্য নেতারা দাবি মেনে নেওয়া না হলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন।  

শ্রমিকরা বলেন, তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশেপাশে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নকাজে নিয়োজিত থাকায় দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছে। তাই স্বাভাবিক কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে নিয়োগ পাওয়ার অগ্রাধিকার এলাকার মানুষজনেরই। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনও আশ্বাস দেয়, এলাকাবাসীর এই দাবিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত ও কেন্দ্রের পাশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার স্থানীয় দক্ষ ও অভিজ্ঞ শ্রমিকদের উৎপাদন কাজে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীর দাবি মেনে নিচ্ছে না। বরং নিয়োগ বাণিজ্যের ফায়দা হাসিলের জন্য বহিরাগত অদক্ষ শ্রমিক নিয়োগ প্রদান করছে। তাই বাধ্য হয়েই তারা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করছেন।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটের শ্রমিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরেই তারা নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে কর্তৃপক্ষ বিষয়টিতে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। যার কারণে পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন আর আন্দোলন করা ছাড়া কোনও উপায় নাই। জীবন দিয়ে হলেও দাবি আদায়ে স্থানীয়রা পিছপা হবে না।’বড়পুকুরিয়ায় স্থানীয়দের বিক্ষোভ

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ জানান, ‘আগামী তিন দিন সুশৃঙ্খল অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। কিন্তু এর মধ্যে দাবি আদায়ের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সেক্ষেত্রে রেলপথ ও রাজপথ অবরোধের মতো ঘোষণাও আসতে পারে।’ 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম সরকার জানান, ‘যে দাবি নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তাছাড়া চাকরি দেওয়ার কোনও ক্ষমতা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নেই। এটি সম্পূর্ণ পিডিবি’র ব্যাপার। গায়ের জোড়ে স্থানীয়রা এই আন্দোলন করছে।’

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৫ জুলাই বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩নং ইউনিটের কাজ শুরু হয়। প্রায় এক হাজার স্থানীয় শ্রমিক এই কাজে অংশগ্রহণ করেন যার কার্যক্রম শেষ হয় ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই। বর্তমানে এই ইউনিটটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়াও বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাকি ২টি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।