পরিচয় মিলেছে মস্তকবিহীন নারীর মরদেহের

মৌলভীবাজারমৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ধলাই চা-বাগান থেকে উদ্ধার মস্তকবিহীন নারীর মরদেহের পরিচয় মিলেছে। ওই নারী শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট চা-বাগানের বৈষ্ণবী ইরানী তাঁতী (২৫)। কমলগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক চম্পক ধাম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রবিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধলই চা বাগান থেকে সাত জনকে আটক করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক চম্পক ধাম জানান, শনিবার ধলাই চা বাগানের ১নং প্লান্টেশন এলাকা থেকে অজ্ঞাত পরিচয় মরদেহ হিসেবে মস্তকবিহীন অবস্থায় বৈষ্ণবী ইরানী তাঁতীর মরদেহ উদ্ধার করে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে নিহত নারী শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালীঘাট চা-বাগানের দেব তাঁতী ও সেতু তাঁতীর মেয়ে। তিনি কালীঘাট চা-বাগানের ফাঁড়ি চা-বাগান ফুলছড়ার কৃষ্ণ মন্দিরে সেবায়েত হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বৈষ্ণব হিসেবে তিনি প্রায়ই কমলগঞ্জের সীমান্তবর্তী ধলই চা-বাগানের শ্রমিক বস্তিতে এসে ভিক্ষা করতেন। গত বুধবার থেকে তিনি নিখোঁজ হন। বৃহস্পতিবার তিনি ধলাই চা-বাগানের রামচন্দ্রের বাড়িতেও এসেছিলেন। শনিবার দুপুরে ধলই চা-বাগানের প্লান্টেশন এলাকায় মস্তকবিহীন অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।

এদিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত জনকে আটক করেছে। আটকদের মধ্যে রয়েছেন- মো. হাসান (৩৫), প্রেম সাধু (৫০), উত্তম সাধু (৩৫), দয়াল সাধু (৪৫), রাম চন্দ্র পাশী (৫০), রতন পাশী (৩৫) ও যাদু পাশী (২২)। তারা সকলই ধলাই চা-বাগানের বাসিন্দা।

কমলগঞ্জ থানার এসআই চম্পক ধাম জানান, আটক ব্যক্তিদের কমলগঞ্জ থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য বের হয়েছে। তবে আরও সঠিক তথ্য সংগ্রহে জোর পুলিশি তদন্ত চলছে। শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উদঘাটন হবে।