তফসিলের পর সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত: সিইসি

দিনাজপুরে সিইসি কে এম নূরুল হুদাপ্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, ‘নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। সঠিক সময়েই নির্বাচন হবে, যার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে বসে উদ্যোগ নেওয়ার সময় নেই।’ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তফসিল ঘোষণার পর বৈঠক করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’

মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য সময় রয়েছে অক্টোবরের ৩১ থেকে জানুয়ারির ২৮ তারিখের মধ্যে। এরমধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২৭ ডিসেম্বর তারিখে নির্বাচনের যে কথা বলা হয়েছে তা একজন সিনিয়র মন্ত্রী বলেছেন। উনি বয়স্ক মানুষ ও সিনিয়র মানুষ বলেই বলে ফেলেছেন। তা ভুলে যান।’

জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে আগামী নির্বাচনে সীমিতভাবে ইভিএম ব্যবহার করা হবে উল্লেখ করে কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘ইভিএম ব্যবহারের জন্য আইনের পরিবর্তন প্রয়োজন। আইন পরিবর্তনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ইভিএমের প্রদর্শনী হবে। এখানে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলো ইভিএমের ব্যবহার দেখবেন। ডিসপ্লেও করা হবে। প্রতিক্রিয়া জেনে ইভিএম ব্যবহারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিছু কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার করতে ইভিএম ব্যবহার করা হবে, তবে কাউকে অসন্তুষ্ট করে কিছুই করা হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন পরিচালনা করার মতো যথেষ্ট প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। তবে নির্বাচনকালীন সরকার কীভাবে গঠন হবে সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কিছুই করার নেই।’

সিইসি বলেন, ‘এটি কোনও নির্বাচনি সফর নয়। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে দিনাজপুরে আসা হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তা, আনসার, র‍্যাব, পুলিশ বা নির্বাচনে যারা দায়িত্ব পালন করবেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালিত হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সব ধরনের সমন্বয় করার কথা জানিয়েছেন।’

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ড. আ ন ম আবদুছ ছবুরের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব খন্দকার মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম, দিনাজপুর বিজিবি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল মোর্শেদুর রহমান, র‍্যাব ১৩ ক্যাম্প কমান্ডার মেজর সোহেল হোসেন, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (রংপুর) জিএম সাহাদাম হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ, সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার, ভারপ্রাপ্ত আনসার অ্যাডজুটেন্ট মোতালেব হোসেন, ডিজিএফআই’র উপ-পরিচালক জুলফিকার রহমান, এনএসআইর উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল ইসলাম মামুন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন, বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদ ইবনে ফজল প্রমুখ। এর আগে সকালে তিনি জেলার ১৩টি উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচনা করেন। ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন। এ সময় সিইসি নির্বাচন কার্যালয় ঘুরে দেখেন এবং বৃক্ষরোপণ করেন।

আরও পড়ুন- আরপিও সংশোধন না হলে বিদ্যমান আইনেই নির্বাচন: ইসি সচিব