এদিকে রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় কারণ অনুসন্ধানে ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে চার সদস্যের একটি দল চা বাগানের মাঠ পর্যায়ে কাজে নেমেছেন। দলের সদস্যরা জানান, বাগানের কর্মীরা নিরাপদ পানি ব্যবহারের সুযোগ পান না। দূষিত পানির ব্যবহার ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। এক্ষেত্রে নিরাপদ পানির ব্যবহার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শ্রীমঙ্গল সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিনই ডায়রিয়া আক্রান্ত নতুন রোগী ভিড় জমাচ্ছেন। এছাড়া ফিনলে চা-বাগানের নিয়ন্ত্রণাধীন কালিঘাট চা বাগানের হাসপাতাল থেকেও চিকিৎসা নিচ্ছেন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীরা।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফিনলে টি কোম্পানির ভুরভুরিয়া চা-বাগান, লাখাইছড়া চা-বাগান, ফুলছড়া চা-বাগানের নারী-পুরুষ ও শিশুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে বেশি দুর্বল হয়ে পড়া রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ফিনলে টি কোম্পানির ব্র্যাঞ্চ চেয়ারম্যান গোলাম শিবলী জানান, এর আগে তাদের বাগানে এই রোগের প্রকোপ দেখা দেয়নি। এটা পানিবাহিত রোগ। বাগানের এক ঘরের একজনের হলে পরিবারের সবাই আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগ প্রতিরোধে এরই মধ্যে বাগানে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা তাদেরকে নানাভাবে সচেতন করার চেষ্টা করছি।
ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে আসা অনুসন্ধান দলের সদস্য ডা. তানভীর বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সোর্স থেকে কিছু স্যাম্পল সংগ্রহ করেছি। তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে কেন বাগানের কর্মীরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন।’
তিনি মনে করেন, বাগানে কাজ করার সময় খোলাস্থানে মলমূত্র ত্যাগ এবং পরে সঠিক উপায়ে হাত পরিষ্কার না করা ও খাবার গ্রহণের কারণেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। এছাড়া নিরাপদ পানির অভাব এবং ময়লাযুক্ত কূপের পানি ব্যবহারেও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।
ডা. তানভীর আরও বলেন, ‘শুনেছি বাগানের কর্মীরা হাড়িয়া নামের নিজস্ব উপায়ে তৈরি মদ পান করেন। এ কারণেও ডায়রিয়া হতে পারে। ওই মদ পরীক্ষা করলে বিষয়টি বোঝা যেতো।