বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে জেলা পুলিশের আয়োজনে মাদক, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, ‘পাকিস্তানের কাছ থেকে আমরা শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হয়ে তাদের বিরুদ্ধে নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে জয়লাভ করেছিলাম। সেই পাকিস্তান দুর্নীতির কারণে আমাদের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ এখন রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবীরা ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মতো হচ্ছে চাচ্ছেন। জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে না জানলে বাংলাদেশকে জানা যাবে না। বাংলাদেশকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার যখন একটি ভিশনকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে তখন মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন দেশের অবস্থা ভালোর দিকে যাচ্ছে তখন দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। হলি আর্টিজান বেকারির হামলার ঘটনায় অনেক বিদেশিকে হত্যা করে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও এই স্বাধীনতা বিরোধী চক্র ব্যর্থ হয়েছে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছি। জাতির জনক ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছিলেন, “আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।” আমরা তা আবারও প্রমাণ করেছি। বাংলাদেশ সঠিক নির্দেশনা পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারে তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। এসব কাজে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে অনেক পুলিশ সদস্যকে প্রাণ দিতে হয়েছে। তারপরও আমরা সন্ত্রাসীদের কাছে হার মানিনি। ’৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন খারাপ মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ।’
‘আমরা জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নির্মূল করতে পারিনি। তারপরও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ আমাদের সহায়তা করেছে বলে সফলতা এসেছে। কমিউনিটি পুলিশিং আমাদের অনেক সাহায্য করছে। পুলিশ কখনওই একা জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। জনগণের সাহায্য ছাড়া মাদক, জঙ্গি ও সন্ত্রাস নির্মূল করা সম্ভব নয়। আপনারা মাদক ধ্বংস না করলে মাদক আপনাদের ধ্বংস করে দেবে।’
সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি অভিযানের সংবাদ সাংবাদিকরা পজিটিভভাবে তাদের স্ব স্ব গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন।’
অভিভাবদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘মাদক ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে সন্তানরা যেন জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সন্তানরা ভালো কিছু পরিবার থেকে শেখে। তাদের ভালো শিক্ষা দিতে হবে। যখন সন্তানরা ভুল শিক্ষা পায় তখন তারা খারাপ বন্ধুর পাল্লায় পড়ে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে।’
‘মাদক, জঙ্গিবাদ ও নাশকতার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার কঠোর। সুখী সুন্দর সোনালি দেশ গড়তে মাদক, জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে। এর সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
সমাবেশ শেষে আইজিপি মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন এবং আত্মসমর্পণকারী মাদক বিক্রেতাদের পুনর্বাসনে তাদের ৩০ জনের মাঝে ভ্যান বিতরণ করেন।
সমাবেশে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন– খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশানার নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার, নৌপুলিশের ডিজি মারুফ হাসান, খুলনা বিভাগীয় রেঞ্জ ডিআইজি দিদার আহমেদ, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মো. ইফতেখার হোসেন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি জগলুল হায়দার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোশাররফ হোসেন মশু, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু আহমেদ, কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপন, তালা উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎকুমার, সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মুজিবর রহমান, জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি আবুল কালাম বাবলা প্রমুখ।
এর আগে সাতক্ষীরা সিটি কলেজ থেকে মাদকবিরোধী র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে এসে মাদকবিরোধী সমাবেশে মিলিত হয়।