আরেকটি অসাংবিধানিক সরকার ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্র হচ্ছে: খাদ্যমন্ত্রী

কেরানীগঞ্জে খাদ্যমন্ত্রীখাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলাদেশে আর একটি অসাংবিধানিক সরকার কীভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায় তার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। জামাত সবসময় এসব ষড়যন্ত্রের পেছনে থাকে, কখনও সামনে থাকে না।’

বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর)  সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জের আঁটিবাজার এলাকায় ঢাকা-২ আসন সংসদ সদস্যের কার্যক্রম পরিচালনা সমন্বয় কমিটির শাক্তা ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘সরকারের উন্নয়ন, সফলতা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনার প্রচার’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সবার অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকবেন। এই নির্বাচনকালীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী থাকবেন যারা নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবেন। বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপি মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গীগোষ্ঠী আইএস ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির এজেন্টদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। কিন্তু হাত মিলিয়ে কোনও লাভ নাই। কিছু নাম সর্বোচ্চ পার্টির ঐক্য হয়েছে। এদের কোনও ভোট নাই। আমরা হক- ভাসানি-সোহরাওয়ার্দীর ঐক্য দেখেছি। যে ঐক্যের ফলে মুসলীম লীগের ভরাডুবি হয়েছিল। কিন্তু আজ কয়েকজন নেতায় নেতায় ঐক্য হয়েছে। বিএনপি এই  ঐক্যে যোগ দিয়েছে। তারা জানে, নির্বাচনে কোনোদিন তারা জয়লাভ করতে পারবে না। তাই তারা যতই তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সহায়ক সরকার কিংবা নিরপেক্ষ সরকারের দাবি জানান, কিন্তু কোনও দাবি আর মানা হবে না।’

বিএনপিকে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের যদি জনগণের প্রতি আস্থা থাকে তাহলে নির্বাচনে আসুন। কিন্তু সেই শক্তি আপনাদের নাই। তাই আপনারা বিদেশিদের কাছে নানা নালিশ করছেন। যারা দেশে আগুন সন্ত্রাস করেছে তাদের আর ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগ যদি আবার ক্ষমতায় আসতে না পারে তাহলে দেশে আবার সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়বে।’

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ল্যান্ডফোনের ব্যবহার কমে গেছে। মানুষ এখন মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের পর মানুষের কথাবার্তা আরও সহজ হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে দেশে অভুতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বে দেশে যেভাবে জঙ্গীবাদ নির্মূল করা হয়েছে তা বিদেশে ভূয়সী প্রসংশা অর্জন করেছে। শেখ হাসিনা বিশ্বের তিনজন সৎ নেতার মধ্যে একজন এবং বিশ্বের ১০জন রাষ্ট্রনায়কের মধ্যে তার অবস্থান।’

শাক্তা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক হাজী শফিউল আজম খান বারকু, সদস্য সচিব ইউসুফ আলী চৌধুরী সেলিম,যুগ্ন আহ্বায়ক হাজী আবু সিদ্দিক, আইকে শাহীন, হাজী মো. আলাউদ্দিন, সহদফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল হক, সদস্য আলতাপ হোসেন বিপ্লব, মো. জাকির হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হান্নান, মো. ফজলুর রহমান প্রমুখ।