কালুখালীতে সেতুর অভাবে ২৫ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

‘নদীর কোল’-এর ওপরের সাঁকো (ছবি- প্রতিনিধি)

রাজবাড়ী জেলার কালুখালী রতনদিয়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পদ্মার শাখা নদীর ওপর কোনও সেতু না থাকায় দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে ওই এলাকার ২৫ গ্রামের মানুষ। বর্ষা মৌসুমে খেয়া নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।

কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলে মাধবপুর, কামিয়া, পশ্চিম হারুয়া, হরিনবাড়ীয়া, কৃষ্ণনগর ও বাঘলপুরসহ প্রায় ২৫টি গ্রাম রয়েছে, যেখানে ২০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। এই চরাঞ্চলের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পদ্মার ছোট্ট একটি শাখা, যা নদীর কোল নামে পরিচিত। এ নদীর গঙ্গারামপুর হিরু মোল্লার ঘাটে কোনও সেতু নেই। এখানে ১০০ মিটার লম্বা একটি বাঁশের সাঁকো আছে, যা বর্তমানে পানিতে তলিয়ে আছে। এতে ওই ২৫ গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ অঞ্চলের মানুষ খেয়া নৌকা দিয়ে নদীর কোল পারাপার করে থাকেন।

কৃষ্ণনগর গ্রামের জয়নাল মন্ডল নামের এক বৃদ্ধ বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে আমরা এভাবে পারাপার করে আসছি। আগে এই সাকোঁও ছিল না। শুকনা মৌসুমে কোলের তলদেশ দিয়ে পায়ে হেটে ও বর্ষা মৌসুমে খেয়া নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতে হতো। এই ঘাটে একটি সেতু হলে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমতো।’

আশিকুর রহমান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বর্তমানে সাকোঁ পানিতে তলিয়ে আছে, চলাচল করা যায় না। আমরা ঠিক সময়ে স্কুল-কলেজে যেতে পারি না।’

ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লতিফ মোল্লা বলেন, ’২৫ গ্রামের মানুষের চলাচল এই সাঁকো দিয়ে। পদ্মায় পানি বৃদ্ধিতে এই কোলেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে সাঁকোটি। এটা দিয়ে মানুষ এখন আর চলাচল করতে পারছে না। বিকল্প হিসেবে খেয়া নৌকায় পার হচ্ছে। কিন্তু মাত্র একটি খেয়া নৌকা থাকায় সেখানেও চরম ভোগান্তি শিকার হতে হচ্ছে।’

রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেহেদী হাসিনা পারভীন নিলুফা বলেন, ‘৪ বছর আগে উপজেলা পরিষদ এই সাকোঁ নির্মাণ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে আমি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর দুই লাখ টাকা ব্যয়ে সাকোঁটি সংস্কার করে দিয়েছি। শুকনা মৌসুমে এই সাকোঁর ওপর দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারলেও এখন পানি উঠে যাওয়ায় তারা আর চলাচল করতে পারছে না।’