নীলফামারীর গাছে গাছে নির্বাচনি ব্যানার-ফেস্টুন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নীলফামারীতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রচারণা এখন তুঙ্গে। বিভিন্ন এলাকার গাছ ও পিলার ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের ব্যানার-পোস্টার-ফেস্টুনে। এই জেলার বাকি তিন আসনে তেমন কোনও প্রচারণা দেখা না গেলেও নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে রমারমা প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। 

এলাকাবাসী বলছেন, ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন আদায়ের জন্য প্রচার কাজ চালালেও তা এলাকার সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপশি শহরবাসীর বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার ডোমার ও ডিমলায় উপজেলার রাস্তা-ঘাট ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে, গাছপালায়, এমনকি বিদ্যুতের খুঁটিসহ সবস্থানেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পোস্টার ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে এসব প্রচার প্রচারণা। দলীয় মনোয়ন ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সমর্থন পেতে চেনা-অচেনা মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অনেকেই নিজেদের কথা জানান দিয়ে যাচ্ছেন।

ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের ধরণীগঞ্জ গ্রামের আব্দুস সাত্তার (৫৫) বলেন, ‘এবারে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী দেখে জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থী বেছে নেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ড দিয়ে সাধারণ ভোটারের মন জয় করা যাবে না। বরং এগুলোর জন্য শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। এলাকাবাসীর বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব।’

এ ব্যাপারে জেলা বন বিভাগ কর্মকর্তা মাহবুবর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। তাই যত্রতত্র এমনকি রাস্তার দুই ধারের শোভাবর্ধনকারী গাছগুলোতে মনোনয়ন প্রত্যাশী লোকজন এসে পেরেক মেরে ব্যানার লাগিয়ে দিচ্ছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এসব কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা।’

স্থানীয়রা বলছেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সরকারি আইন ও পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পোস্টার-ব্যানার ও বিলবোর্ড লাগানো উচিত। এতে আইনশৃঙ্গলা ও পরিবেশ দুটোই ঠিক থাকতো।

নীলফামারী পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, ‘শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ২০১৭ সালে অক্টোবর মাসে সব ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন, কোচিং বিজ্ঞপ্তি, ডাক্তারি বিজ্ঞাপন ও রাজনৈতিক ব্যানার তুলে ফেলা হয়েছে। এখন নির্বাচনকে ঘিরে দু-একটি রাজনৈতিক ব্যানার-পোস্টার থাকলেও তফসিল ঘোষণার পরপরই জেলা নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় সেগুলো তুলে ফেলা হবে।’

এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তফশিল ঘোষণার পরপরেই নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থীদের প্রচারণার ফেস্টুন-ব্যানার ও শুভেচ্ছা বার্তা অপসারনে প্রশাসনের সহায়তায় অভিযানে নামবে জেলা নির্বাচন কমিশন।’