বরগুনা জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৬ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে শহরের বঙ্গবন্ধু সিটি কমপ্লেক্স এ ঘটনা ঘটে।
জাতীয় পার্টির বিভিন্ন সূত্র জানায়, সম্মেলনে হানিফ মাতুব্বরকে সভাপতি ও মাইনুল হাসান রাসেলকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণার পর বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক মকবুল হোসেন হাওলাদারের সমর্থকেরা প্রতিবাদ করে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ১১ জন আহত হলে তাদের বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের সভাপতি ও বরগুনা জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম-আহ্বায়ক মকবুল হোসেন হাওলাদারের অভিযোগ, ‘সম্পূর্ণ অসাংগঠনিকভাবে কেন্দ্রীয় মহাসচিবের চিঠির প্রেক্ষিতে সম্মেলন করা হয়েছে। এত কম সময়ের মধ্যে সম্মেলন করা হয়েছে যে, উপজেলা পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা অংশ নিতে পারে নাই। যারা একসময় দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, তাদেরই আবার দলের নেতৃত্বে আনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দলীয় নেতাকর্মীরা কমিটি ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হলে হাতাহাতির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সম্মেলনে বরগুনার ৬টি উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কোনও নেতাই উপস্থিত হননি। জাতীয় পার্টির বাইরের লোকজন নিয়ে সম্মেলন করা হয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, ‘যাকে সভাপতি করা হয়েছে, তিনি দলের সদস্য না; তাকে কিভাবে গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে সভাপতি করা হলো, সেটা আমার বোধগম্য নয়। কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে অনুরোধ, বরগুনায় জাতীয় পার্টির এই বিরোধ নিষ্পত্তি করুন।’
জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শাহাজান মনসুর বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার ২ অক্টোবর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ৬ অক্টোবর জেলা সম্মেলন করার নির্দেশ দেন। কি কারণে তিনি এত স্বল্প সময়ের নোটিশে সম্মেলনের নির্দেশ দিয়েছেন, আমার বোধগম্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি অসুস্থতার কারণে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। তবে জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র অনুসারে এভাবে সম্মেলন হতে পারে না। আমাদের চেয়ারম্যান হোসেন মোহাম্মাদ এরশাদ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
পাথরঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মল্লিক আজাদ বলেন, ‘আমরা এ ধরনের সম্মেলন মানি না। তাই কোনওও ডেলিকেট বা প্রতিনিধিরা সম্মেলনে যাইনি।’
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন– জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মাদ এরশাদের যুব বিষয়ক উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া। সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– যুগ্ম-মহাসচিব জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক ফকরুল আহসান শাহজাদা প্রমুখ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সম্মেলনের প্রধান অতিথি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের যুব বিষয়ক উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে সম্পূর্ণ সাংগঠনিকভাবে সম্মেলন করা হয়েছে।’
মহাসচিব স্বাক্ষরিত যে চিঠির বলে সম্মলেন করা হয়েছে, তাতে কোনও স্মারক নম্বর উল্লেখ নেই কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়েছে; এটাই তো বড় কথা। চিঠিতে হয়তো ভুলবশত স্মারক পড়েনি।’
সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কমিটি ঘোষণা করে চলে আসার পরে একটা গণ্ডগোল হয়েছে, শুনেছি। এ বিষয়ে যদি জাতীয় পার্টির কেউ জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’