দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনে কখনও দুর্নীতি করেননি বলে দাবি করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ‘দুর্নীতির প্রমাণ দিলে আমি রাজনীতি-ই ছেড়ে দেবো’। শনিবার (৬ অক্টোবর) বিকালে মোংলায় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক কর্মি-সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমি মোংলা-রামপাল আসন থেকে কয়েক বার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছি। দল ও জনগণের স্বার্থে খুলনা সিটি নির্বাচনে লড়ে মেয়র হয়েছি। ছেড়ে দেওয়া আসনে আমার স্ত্রী এমপি হয়েছেন। জনস্বার্থের বিরুদ্ধে আমি কখনও কোনও কাজ করি নাই, ঘের লুট করি নাই, কারও প্রতি অত্যাচারও করি নাই। যদি কেউ আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অত্যাচারের অভিযোগ করে প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো।’
বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘২০০১ সালে বিএনপির শাসনামলে মোংলা বন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এ বন্দর আবার চালু করে। এ বন্দর ঘিরে উন্নয়নের নানা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর, রেললাইন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে এখানে।’
মেয়র খালেক বলেন, ‘বিএনপি যত কথাই বলুক; নির্বাচন ছাড়া তাদের কোনও বিকল্প নাই। জামায়াতের নিবন্ধন নাই, তারা বিএনপির ঘাড়ে চড়বে। আর মহা ঐক্য নামে যে জোট হয়েছে, সেখানে কিছু খুচরা পার্টি এক হয়েছে; যাদের প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারী এদেশে নাই। তারা আবার শেখ হাসিনার সমালোচনা করে; যাদের যোগ্যতায় দেশে বিন্দুমাত্র বিছু হয়নি।’
গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী দেশের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে দেশে ২৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল, আর আজ দেশে ১২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র। সেদিন বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো পাঁচ হাজার মেগাওয়াট, আর আজ ১৯ হাজার ১৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। এটা শেখ হাসিনার যোগ্যতার জোর।’
কর্মি-সমাবেশে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড ও ছয়টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা যোগ দেন। সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুনিল কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে স্থানীয় এমপি বেগম হাবিবুন নাহার, উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, ভাইস-চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার হাই, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন, যুবলীগ নেতা ইকবাল হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।