প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে প্রতিবন্ধী ভাতিজিকে খুন করান চাচা

গ্রেফতারকৃত রোখসানা হত্যার পরিকল্পনাকারী আবদুল আজিজ (বাঁ থেকে দ্বিতীয়)প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে আপন চাচা উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে খুন করান প্রতিবন্ধী ভাতিজি রোকসানাকে। খুনের ঘটনাটি জোরালো করতে শারীরিক প্রতিবন্ধী ওই ভাতিজির মুখমণ্ডল নির্মমভাবে দাহ্য পদার্থ দিয়ে ঝলসে দেওয়া হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের দিঘুরিয়া দিয়ারপাড়ার মৃত তয়জাল ফকিরের প্রতিবন্ধী মেয়ে রোকসানা খাতুনকে হত্যা করা হয়।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী রোকসানার দুই চাচাকে গ্রেফতারের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারকৃতরা হলো তাড়াশের দিঘুরিয়া দিয়ারপাড়ার মৃত আবদুর রশিদের ছেলে আবদুল আজিজ ও তার মামাতো ভাই আলি আকবর।।

সোমবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের শিয়ালকোলে পিবিআই কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা ইনচার্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম তারেক রহমান গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান। তিনি জানান, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে রোকসানাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তার আপন চাচা আবদুল আজিজ ও তার মামাতো ভাই আকবর আলি। ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে তারা এ নির্মম হত্যাকাণ্ডটি ঘটান বলে জিজ্ঞাসাবাদে দুজনেই স্বীকার করেছেন।

এসএম তারেক রহমান আরও জানান, রোকসানা হত্যার পরদিন চাচা আবদুল আজিজ নিজেই বাদী হয়ে তাড়াশ থানায় মামলা করতে চেয়েছিলেন। প্রতিপক্ষ আবদুল করিম ও তার বোনজামাই আতাই শেখসহ স্বজনদের হত্যা মামলায় ফাঁসাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, পুলিশ নিহতের ভাই রেজাউলকে বাদী করায় তাদের অশুভ পরিকল্পনা সফল হয়নি।

কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া ভাড়াটে খুনিদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়া পুলিশের এ কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে দিঘুরিয়া দিয়ারপাড়ার মৃত তয়জাল ফকিরের প্রতিবন্ধী মেয়ে রোকসানা খাতুনকে হত্যা করা হয়। পরদিন ভিকটিমের ভাই রেজাউল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের নামে তাড়াশ থানায় মামলা করেন। এরপর মামলা তদন্ত শুরু করে পিবিআই। গত শনিবার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নিহতের চাচা আবদুল আজিজকে আটক করা হয়।