বগুড়ার ধুনটে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার মডেল টেস্টের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ধুনট উপজেলার ২০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ১৯টি কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী মডেল টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস প্রশ্নপত্র তৈরি করতে ১২ জন ‘অভিজ্ঞ’ শিক্ষককে দায়িত্ব দেয়। তাদের তৈরি প্রশ্নপত্র ৪ জন শিক্ষক যাচাই-বাছাই করেন। এরপর তা ছাপানোর অনুমতি দেওয়া হয়।
উপজেলার বেশ কয়েকজন অভিভাবক-শিক্ষক অভিযোগ করেন, প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন –এমন কয়েকজন শিক্ষক তাদের কোচিং সেন্টার বা প্রাইভেট ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার আগের দিন প্রশ্নপত্রের অনুলিপি দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী মডেল টেস্টের প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আগের দিন এক শিক্ষক তার প্রাইভেট ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্নের অনুলিপি দেন। ১৪টি শূন্যস্থান পূরণ, ১৫টি ছোট প্রশ্ন, বামপাশের বাক্যাংশের সঙ্গে ডানপাশের বাক্যাংশের মিলকরণ ও ১০টি বড় প্রশ্নের মধ্যে প্রায় সব প্রশ্নই ফাঁস করে দেওয়া হয়েছে। ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত গণিত পরীক্ষার আগেই ৪ অক্টোবর অধিকাংশ প্রশ্নপত্রই ফাঁস করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া, ৯ অক্টোবরের ধর্ম শিক্ষা প্রশ্নের অনুলিপি ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় পাওয়া যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র বলে, ‘কিছু বিশেষ স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়লে সব প্রশ্নই কমন পড়ে। স্যার পরীক্ষার আগের দিন প্রশ্ন ও উত্তর লিখে দেন। অনেকে এসব প্রশ্ন ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে অন্যদের দেয়।’
রবিউল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘কিছু অসাধু শিক্ষকদের জন্যই কোমলমতি মেধাবী শিক্ষার্থীরা ঝড়ে পড়ছে। আর জাতি মেধাশূন্য হচ্ছে।’ অনেকের মতো তিনিও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, ‘উপজেলার ১২ জন শিক্ষক প্রশ্নপত্র তৈরি করেন। যদি কোনও অসাধু শিক্ষক প্রশ্নপত্র ফাঁস করে থাকেন; তাহলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’