মঙ্গলবার বিকালে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ এই আয়োজনের উদ্বোধন করবেন। তিন দিনের আয়োজনের দ্বিতীয় দিন প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া।
লালন মাজারের প্রধান খাদেম ফকির মহম্মদ আলী শাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘সাঁইজির তিরোধান দিবসের এ সময় আখড়া দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো প্রাণের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রতিবছরের মতো এবারও লালনভক্তদের জন্য বিকালে অদিবাস,সকালে বাল্যসেবা ও দুপুরে পূর্ণসেবা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক সাধক শিরোমণি লালন সাঁইজির মৃত্যুর পর থেকে প্রথমে তার অনুসারীরা,পরে আখড়া কমিটি ও লালন একাডেমি এই উৎসব পালন করে আসছে।’
লালন ফকিরের আখড়া ঘুরে দেখা যায়, তিরোধান দিবস উপলক্ষে এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছেন ভক্তরা। তাদের মুখে মুখে লালনের বাণী। মূল উৎসব শুরু হওয়ার আগেই আখড়ায় আসা বাউল সাধকরা মাজারের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে গেয়ে চলেছেন আধ্যাত্মিক সংগীত। কালিগঙ্গা নদীর তীরে হরেক রকমের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।
লালন একাডেমির শিল্পী শিরীন আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘লালন সাঁইজির গান বিভিন্নভাবে ও মিউজিক দিয়েও গাওয়া হচ্ছে। আমরা সাঁইজির প্রকৃত সুর ধরে রাখার চেষ্টা করছি।’ ফকির নাদিম শাহ বলেন, ‘সাঁইজির গান গাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় লাগে না। যেকোনও সময় গাওয়া যায়। এর জন্য আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন পড়ে না বাউল ভক্তদের। মূল বিষয় হলো, সাঁইজির বাণী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং বাস্তবে কাজে লাগানো।’
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম তানভীর আরাফাত জানান, সুষ্ঠুভাবে আয়োজন সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সেখানে থাকবে র্যাব ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ।
লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আসলাম হোসেন জানান, ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবস উপলক্ষে এবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।