মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে ক্ষতিপূরণের অতিরিক্ত অনুদান ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইসডো) নামের একটি বেসরকারি এনজিওর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে দেওয়া হয়। এই এনজিওর জাজিরা শাখার এরিয়া ম্যানেজার জাকির হোসেন, শিবচরের মাদবরচরের ইউপি সদস্য ছালমা বেগম ও কাদির ফকিরসহ ১২-১৫ জনের একটি প্রতারকচক্র মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাওয়া চেক জালিয়াতি করে। ছালমা ও কাদির প্রায় ৭৮ লাখ টাকার চেক ওই এনজিও’র কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়। এক সপ্তাহ আগে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ জালিয়াতির এই ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। এরপর তারা মাদারীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে নথিপত্র অনুসন্ধান করে জালিয়াত চক্রের হোতাদের শনাক্ত করে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) রাতে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের (নদী শাসন ও পুর্নবাসন) নির্বাহী প্রকৌশলী শারফুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবচর থানায় মামলা দায়ের করেন। রাতেই সেতু কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে শিবচর থানা পুলিশ মাদবরচরে ইউপি সদস্য ছালমা বেগমের বাড়িতে গিয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় এসডিও এনজিওর জাজিরা শাখার এরিয়া ম্যানেজার জাকির হোসেন পলাতক রয়েছেন।
মাদারীপুরের শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের ক্ষতিপূরণের চেক জালিয়াতির ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য ছালমাকে গ্রেফতার করা হয়। ছালমা নিজের নামে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ৩৯ লাখ টাকা নিজের নামে হাতিয়ে নিয়েছিল। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।’
জানতে চাইলে মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নূর হোসেন বলেন, ‘থানায় যেহেতু মামলা হয়েছে, পুলিশের আইনে যেটা করণীয় তারা সেটাই করবে। তবে আমাদের জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার কোনও কর্মকর্তা যদি এর সঙ্গেজড়িত থাকে তবে আমরা তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবো।’