জবির বাসে পরিবহন শ্রমিকদের হামলা, ৬ শিক্ষার্থী আহত

শিক্ষার্থী বহনকারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বাসটিতে হামলা চালায় পরিবহন শ্রমিকরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীবাহী একটি বাসে হামলা চালিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা।এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬ শিক্ষার্থী। রবিবার (২৮ অক্টোবর) গুলিস্তান এলাকায় রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এ হামলা চালানো হয়।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন, ১০ম ব্যাচের জার্নালিজম বিভাগের অভি, ১১তম ব্যাচের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শামস,১২তম ব্যাচের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের কনিক, ১২তম ব্যাচের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মেহেদী,১২তম ব্যাচের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জোবায়ের ও ১৩তম ব্যাচের মার্কেটিং বিভাগের ইমরান।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জবির শিক্ষার্থী বহনকারী নারায়ণগঞ্জ-মেঘনাগামী স্বপ্নীল বাসটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাত্রা করে বিকাল ৪টা নাগাদ গুলিস্তান মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের কাছে পৌঁছলে চার-পাঁচজন শ্রমিক রড, লাঠিসোঁটা নিয়ে বাস থামিয়ে ধর্মঘট চলাকালে বাস বের করায় কৈফিয়ত চায়। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটি হয়।এরপর শ্রমিকরা রড, লাঠিসোঁটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করলে কিছু ছাত্র শ্রমিকদের মধ্যে আটকা পড়েন।এ সময় শ্রমিকরা ওই ছাত্রদের বেধড়ক মারপিট করে।এতে পাঁচ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।পরে বাসের বাকি ছাত্ররা নেমে আসলে শ্রমিকরা পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর পার্শ্ববর্তী পুলিশ বক্সে গিয়ে শিক্ষার্থীরা সাহায্য চাইলে দায়িত্বরত পুলিশ দুজন শ্রমিককে খুঁজে বের করে তাদের কাছ থেকে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খরচ ও একজন শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলায় জরিমানা আদায় করে দেন।পরে প্রায় ঘণ্টাখানেক আটকে থাকার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় শিক্ষার্থীরা বাসে উঠে গন্তব্যে রওনা দেন।

ঘটনার সময় বাসে থাকা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাফিউর রাফি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘আন্দোলনের নামে এ ধরনের হামলার ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। শ্রমিকরা জবির শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মাধ্যমে পুরো ছাত্র সমাজকে আঘাত করেছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জবির প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। এছাড়া আমরা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে বলে জানিয়েছে।’

উল্লেখ্য, রোববার সকাল ছয়টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত নতুন সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধন ও ৮ দফা দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।