এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ চার আসামিকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ট্রাস্টের নামে ঢাকা শহরে থাকা ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রায়ত্ত করার আদেশ দেন আদালত। সোমবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন।
এদিকে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায়ের প্রতিবাদে ৩০ অক্টোবর দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির পাশাপাশি ৩১ অক্টোবর মানববন্ধন এবং ১ নভেম্বর গণঅনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। সারা দেশের জেলা সদর ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এ কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রায় ঘোষণার পর এর প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ সমাবেশ সম্পর্কে বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন:
রাজশাহী প্রতিনিধি জানান, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চার আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। সোমবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী নগরীর মালোপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে বিএনপি। এ সময়ে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা প্রদান করে।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন– রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি শওকত আলী, মতিহার থানা বিএনপির সভাপতি আনসার আলী, শাহ্ মখ্দুম থানা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান শরীফ, মতিহার থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক ডিকেন, শাহ্ মখ্দুম থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মাসুদ, বোয়ালিয়া থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বিপ্লব, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, বর্তমান সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, জেলা যুবদলের সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, মহানগর তাঁতি দলের সভাপতি আরিফুল শেখ বনি প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই সরকার দমন, নিপীড়ন, হত্যা, মিথ্যা মামলা ও ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে সাজা প্রদান করে জিয়া পরিবার ও বিএনপিকে দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করার পাঁয়তারা করছে। সেইসঙ্গে বিনাভোটে নির্বাচন করার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু বিএনপি ও বাংলার মানুষ তাদের এই দিবাস্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হতে দেবে না। কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটানো হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ৬ নভেম্বরের বিভাগীয় সমাবেশের পরে তারা মাথায় কাফনের কাপড় জড়িয়ে সরকার পতনের আন্দোলনে রাজপথে নামবেন। যতক্ষণ পর্যন্ত এই সরকারের পতন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন– জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, মোহাম্মদ শোকরানা, আলী আজগর হেনা, মাহবুবর রহমান বকুল, এমআর ইসলাম স্বাধীন, নাজমুল হুদা পপন, পরিমল চন্দ্র, তাহা উদ্দিন নাহিন, মেহেদী হাসান হিমু, সিপার আল বখতিয়ার, খাদেমুল ইসলাম, আবু হাসান, নুরে আলম রিগ্যান প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলায় রায় দেওয়া হয়েছে। রাজনীতি থেকে তাদের দূরে রাখতে সরকার চক্রান্ত করছে। অবিলম্বে তারেক রহমানসহ সকল নেতাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন বক্তারা।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান,বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায় বাতিলের দাবিতে নগরীতে মিছিল করেছে মহানগর বিএনপি। সোমবার দুপুরে শহরের আমলাপাড়া থেকে কালীবাজার মোড় পর্যন্ত মহানগর বিএনপি এ মিছিল করে।
মিছিল শেষে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএ কামাল বলেন, দেশের গণতন্ত্রের প্রতীক হচ্ছেন খালেদা জিয়া ও তার পরিবার। জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। সেই ষড়যন্ত্রের নীল নকশার এটি ছিল শেষ ধাপ। খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রেখে আবার খালি মাঠে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করার উদ্দেশ্যেই খালেদা জিয়ার ৭ বছরের কারাদণ্ডের রায় প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিক্ষোভ মিছিলে স্বেছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত ইসলাম রানা, মহানগর নেতা সাহারিয়া ইমন, মাকিদ মুস্তাকিম শিপলুসহ অনেকে অংশ নেন।
জামালপুর প্রতিনিধি জানান,জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে ঝটিকা মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামালপুর জেলা বিএনপি।
সোমবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুনের নেতৃত্বে শহরের স্টেশন রোড এলাকা থেকে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় জেলা যুবদল সভাপতি ফিরোজ মিয়া, আবদুল হালিম, রিজভী আল জামালী রঞ্জু, মঞ্জুরুল করিম, রুকন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে বক্তারা এই রায়কে সাজানো মামলা উল্লেখ করে অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানান।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বিএনপি নেতারা বলেন, ‘বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখায় জন্য সরকার অহেতুক প্রতিহিংসার রায় ঘোষণা করেছে। বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে আর কোনও নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। সরকারদলীয় লোকজনকে দিয়ে ভুয়া মামলা, ভুয়া সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যেখানে সাজা দূরের কথা, মামলাই চলতে পারে না, সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে সাত বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া সকল সাজা বাতিল করে তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।’
পথসভায় বক্তব্য রাখেন– সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত্ চৌধুরী সাদেক, মহানগর সহ-সভাপতি কাউন্সিলার ফরহাদ চৌধুরী শামীম, সহ-সভাপতি কাউন্সিলার রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন বাচ্চু হুমায়ুন আহমদ মাসুক, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ খান জামাল ও আবুল কাশেম, দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. ফখরুল হক, মহানগর আপ্যায়ন সম্পাদক আফজাল উদ্দিন।