সংবিধানের বাইরে যাবে না আওয়ামী লীগ: নাসিম

বক্তব্য রাখছেন মোহাম্মদ নাসিম (ছবি– প্রতিনিধি)আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে, সংলাপ হতে পারে। তবে সংবিধান লঙ্ঘন করা যাবে না। আওয়ামী লীগ সংবিধানের বাইরে যাবে না। সংবিধান অনুযায়ী অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে। এর কোনও বিকল্প নেই।’

১৪ দলের মুখপাত্র নাসিম বলেন, ‘যারা বাংলাভাই সৃষ্টি করেছিল, জঙ্গি উত্থান ঘটিয়েছিল, হাওয়া ভবন প্রতিষ্ঠা করেছিল, দেশের জনগণ তাদের আর ভোট দেবে না।’

মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে নিজ নির্বাচনি এলাকা সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চর মেছড়া ইউনিয়নে নবনির্মিত ১০ শয্যার মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র উদ্বোধন শেষে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে তিনি মেছড়ার চরে তিনটি হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিকের নবনির্মিত ভবন এবং শহীদ এম মনসুর আলীর নামে বাস্তবায়িত একটি পাকা সড়ক উদ্বোধন করেন। সকালে ঢাকা থেকে একটি বেসরকারি হেলিকপ্টারে তিনি প্রথমে যান জেলার শাহজাদপুরে। সেখানে শাহজাদপুর উপজেলার শক্তিপুরে ১০ শয্যার মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের নতুন ভবন উদ্বোধন এবং ২০ শয্যার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। পরে রবীন্দ্র কাচারি বাড়িতে এক সুধী সমাবেশে যোগ দেন। শাহজাদপুরে মন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে অর্ধশত তোরণ নির্মাণ করা হয়। তিনি যমুনা নদীর দুর্গম চর সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের রপসারচরে এসে পৌঁছান বিকাল ৩টায়। সেখানে তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মেছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন।

জনসভায় বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা নির্বাচনে আসুন। নির্বাচনের বিকল্প শুধুই নির্বাচন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, সেভাবেই আমাদের দেশে সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন হবে। এর কোনও বিকল্প নেই। কোনও ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না। জনগণ ভোট চায়। আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সব দলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন চায়।’

আওয়ামী লীগ মার্শাল ল’ চায় না মন্তব্য করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘জনগণ ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাই এসব দফা বাদ দিয়ে সবাই নির্বাচনে আসুন। দেশে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ যে দলকে ভোট দেবে, সে দলই পরবর্তী সরকার গঠন করবে। জ্বালাও-পোড়াও ও আন্দোলনের ব্যর্থ দলকে আর কোনও দিন জনগণ ভোট দেবে না। পৃথিবীর কোনও শক্তিই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না।’

শাহজাদপুরের সুধী সমাবেশে নাসিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শাহজাদপুরে দেশের বৃহত্তম রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছেন। স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছে সরকার। আওয়ামী লীগ বড় দল, মনোনয়ন অনেকেই চাইতে পারেন। কিন্তু নৌকার মালিক শেখ হাসিনা। তিনি যাকে মনোনয়ন দেবেন, তার পক্ষেই সবাইকে কাজ করতে হবে। নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।’

মেছড়া ইউনিয়নের রপসা হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাদশা আলম এবং শাহজাদপুরের রবীন্দ্র কাচারি বাড়িতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আজাদ রহমান। পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসিবুর রহমান স্বপন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাজা আব্দুল হান্নান, কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ লাভলু, এইচইডি’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ তারিন, কাজিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, গোলাম রব্বানী ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ প্রমুখ।

যুক্তফ্রন্টের ৭ দফা দাবি, আন্দোলন ও সংলাপ প্রসঙ্গ টেনে জনসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের দাবি অযৌক্তিক। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ক’দিন বাকি আছে। ক’দিন পরেই নির্বাচনের ঢোল বাজতে শুরু করবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তরুণ ব্যারিস্টার ড. কামালকে ভালোবাসতেন, তাকে স্নেহ করতেন। ড. কামালকে ডেকে এনে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী বানিয়েছিলেন, সংবিধান প্রণয়ন কমিটিতে স্থান দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাকে এমপি বানিয়েছিলেন। কিন্তু আজ কষ্ট পাই, যখন দেখি সেই ড. কামাল বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পক্ষ অবলম্বন করে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। দুঃখ লাগে, যখন দেখি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ড. কামাল বক্তব্য রাখছেন।’

তিনি বলেন, ‘ড. কামাল শেষ বয়সে এসে বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে বাংলার মানুষ এ বেইমানির জবাব দেবে।’